৫/৮. অধ্যায়ঃ

জুম’আর দিনের পোশাক-পরিচ্ছেদঃ, ঘাড়ের উপর দিয়ে যাতায়াত করা, ইমামের দিকে মুখ করে বসা সম্পর্কীয় আহকাম

জুমায় মানুষের ঘাড় ডিঙানো নয়: সময়মতো আসার শিক্ষা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৩৬

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ، لَأَنْ يُصَلِّيَ أَحَدُكُمْ بِظَهْرِ الْحَرَّةِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَقْعُدَ حَتَّى إِذَا قَامَ الْإِمَامُ يَخْطُبُ جَاءَ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ৩৬৯-قَالَ مَالِك السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنْ يَسْتَقْبِلَ النَّاسُ الْإِمَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْطُبَ مَنْ كَانَ مِنْهُمْ يَلِي الْقِبْلَةَ وَغَيْرَهَا.

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

জনৈক রাবী হতে বর্ণনা করেন তিনি (আবূ হুরায়রা) বলতেন, তোমাদের কারো ‘যাহরুল হাররা’ [১] তে নামায আদায় করা এটা হতে ভাল যে, সে বসে থাকবে অর্থাৎ সময় থাকতে নামাযের জন্য মসজিদে যাবে না। অতঃপর ইমাম যখন জুম’আর দিন খুতবা দিতে দাঁড়াবেন তখন (তাড়াহুড়া করে যাওয়ার সময়) সে মানুষের ঘাড়ে পা রেখে যাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, ইমাম যে সময় খুতবা পাঠ করতে ইচ্ছা করেন সে সময় লোকজনের ইমামের দিকে মুখ করে বসাটাই আমাদের নিকট সুন্নত, তাদের মধ্যে যারা কিবলার দিকে মুখ করে আছে অথবা যারা কিবলার দিকে মুখ করে বসেনি, সকলেই ইমামের দিকে মুখ করবে। [২]

[১] কাল পাথরবিশিষ্ট মদীনার বাহিরে একটি নির্দিষ্ট স্থান। [২] যাঁরা ইমামের সামনে অবস্থান করতেছেন, তাঁদের মুখ তো ইমামের দিকে আছেই। অবশ্য যাঁরা ইমামের ডানে বা বামে আছেন তাঁরা ইমামের দিকে মুখ করে ঘুরে বসবেন। ভিড়ের কারণে পরে কাতার ঠিক করতে অসুবিধা হয় বিধায় বর্তমানে এই তরীকার উপর আমল করা হয় না; ফলে সকল মুসল্লিই কিবলামুখী বসে খুতবা শুনেন।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৩৬-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় জুমার দিনে মসজিদে দেরিতে এসে মানুষের কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা আছে। আবূ হুরায়রা (রা.)-এর বক্তব্য হিসেবে এসেছে, কারো জন্য দূরে বা কঠিন জায়গায় নামাজ আদায় করা তার চেয়ে ভালো যে সে বসে থাকবে, সময় থাকতে মসজিদে যাবে না; পরে ইমাম খুতবার জন্য দাঁড়ালে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে যাবে। এখানে মূল বার্তা হলো, জুমার নামাজে আগে আসা এবং অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়া। দেরিতে এসে সামনে যাওয়ার জন্য মানুষের ঘাড়ের ওপর দিয়ে পা রাখা জুমার আদবের সঙ্গে যায় না। শেষ অংশে ইমাম মালিক (র.) বলেন, ইমাম খুতবা দিতে চাইলে মানুষের ইমামের দিকে মুখ করে বসা সুন্নত। তাই এই বর্ণনায় সময়মতো আসা, ভদ্রভাবে বসা এবং খুতবার সময় মনোযোগ দেওয়ার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জুমার দিনে আগে মসজিদে আসা ভালো আদব।
  • দেরিতে এসে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • খুতবার সময় ইমামের দিকে মুখ করে বসার কথা বলা হয়েছে।
  • অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়া জুমার গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক শিক্ষা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন