৫/৪. অধ্যায়ঃ
জুম’আর দিনে যার নকসীর হয় তার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
জুমার সময় নকসীর হলে কী করবে: ইমাম মালিকের বক্তব্য
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২৩০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৩০
قَالَ مَالِك مَنْ رَعَفَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَخَرَجَ فَلَمْ يَرْجِعْ حَتَّى فَرَغَ الْإِمَامُ مِنْ صَلَاتِهِ فَإِنَّهُ يُصَلِّي أَرْبَعًا ৩৫৪قَالَ مَالِك فِي الَّذِي يَرْكَعُ رَكْعَةً مَعَ الْإِمَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ يَرْعُفُ فَيَخْرُجُ فَيَأْتِي وَقَدْ صَلَّى الْإِمَامُ الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا أَنَّهُ يَبْنِي بِرَكْعَةٍ أُخْرَى مَا لَمْ يَتَكَلَّمْ ৩৫৫قَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَى مَنْ رَعَفَ أَوْ أَصَابَهُ أَمْرٌ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ الْخُرُوجِ أَنْ يَسْتَأْذِنَ الْإِمَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ.
ইয়াহইয়া (র) হতে বর্ণিতঃ
জুম’আর দিন ইমামের খুতবা প্রদানের সময় যার ‘নকসীর’ [১] হয়েছে, তারপর সে (মসজিদ হতে) বের হয়ে গিয়েছে এবং সে ফিরে এসেছে এমন সময় যখন ইমাম নামায সমাপ্ত করেন, তবে সে চার রাক’আত আদায় করবে।ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুম’আর দিন ইমামের সাথে এক রাক’আত আদায় করে, তারপর তার নকসীর হয়, (সে কারণে) সে বের হয়ে যায়, অতঃপর ইমাম কর্তৃক দু’ রাক’আত সমাপ্ত করার পর সে ফিরে আসে তবে সে ব্যক্তি আর এক রাক’আত আদায় করে নেবে, যদি কোন কথা না বলে থাকে।ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, যার নকসীর হয়েছে অথবা মসজিদ হতে বের হওয়ার জন্য কোন কারণ উপস্থিত হয়েছে, তবে তাকে বের হওয়ার জন্য ইমামের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে না।
[১] গরমের প্রকোপ বা অন্য কোন কারণে নাক দিয়ে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে নকসীর বলা হয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় জুমার খুতবা বা নামাজের সময় নকসীর হলে করণীয় বিষয়ে ইমাম মালিক (র.)-এর বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, জুমার দিন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন—এমন সময় কারো নকসীর হলে সে বের হয়ে যায় এবং ফিরে আসে এমন সময় যখন ইমাম নামাজ শেষ করেছেন, তাহলে সে চার রাকআত আদায় করবে। আবার যদি কেউ ইমামের সঙ্গে এক রাকআত আদায় করার পর নকসীরের কারণে বের হয়, তারপর ইমাম দুই রাকআত শেষ করার পর ফিরে আসে, তবে সে আরেক রাকআত পড়ে নেবে, যদি সে কথা না বলে থাকে। শেষ অংশে বলা হয়েছে, নকসীর বা এমন জরুরি কারণে মসজিদ থেকে বের হতে হলে ইমামের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন নেই। এই বর্ণনায় বাস্তব অসুবিধার সময় নামাজের ধারাবাহিকতা ও জুমার রাকআতের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নকসীর বা জরুরি কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিষয়টি আলাদা পরিস্থিতি হিসেবে এসেছে।
- ইমামের সঙ্গে এক রাকআত পেলে ফিরে এসে আরেক রাকআত যোগ করার কথা বলা হয়েছে।
- নামাজের মাঝখানে কথা বলা হলে বিধান বদলে যেতে পারে—এখানে তা সতর্ক করা হয়েছে।
- জরুরি কারণে বের হতে ইমামের অনুমতি নেওয়ার কথা এখানে বাধ্যতামূলক বলা হয়নি।
