৫/১. অধ্যায়ঃ
জুম’আ দিবসের গোসল
জুমার গোসলের গুরুত্ব: খুতবার সময় মসজিদে আসার আদব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২২১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَخْطُبُ فَقَالَ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْقَلَبْتُ مِنْ السُّوقِ فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ فَقَالَ عُمَرُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ.
সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের একজন (সাহাবী) জুম’আর দিন মসজিদে প্রবেশ করলেন, উমার (রা:) খুতবা প্রদান করছিলেন। তিনি [উমার (রাঃ)] বললেন, এটা কোন সময়? উত্তরে তিনি (প্রবেশকারী সাহাবী) বললেন, হে আমিরুল মু’মিনীন, আমি বাজার হতে ফিরেছি, (ফেরার পূর্বেই) আযান শুনলাম। অতঃপর কেবল ওযূ করেছি। (এটা শুনে) উমার (রাঃ) বললেন, আপনি শুধু ওযূ করেন? অথচ অবগত আছেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের হুকুম করতেন! (বুখারী ৮৭৮, মুসলিম ৮৪৫)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার নামাজের প্রস্তুতি ও সময়ের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। একজন সাহাবী জুমার দিন মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন উমার (রা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি দেরির কারণ হিসেবে বললেন, বাজার থেকে ফেরার সময় আযান শুনে শুধু ওযূ করে এসেছেন। উমার (রা.) এতে শুধু দেরির বিষয়ই নয়, জুমার গোসলের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিলেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে গোসলের হুকুম করতেন। তাই জুমার দিনের গোসল, জুমার খুতবা, সময়মতো মসজিদে যাওয়া এবং নামাজের জন্য সুন্দর প্রস্তুতি—সবই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা। এখানে অতিরিক্ত আলোচনা নয়, বরং সরাসরি বার্তা হলো: জুমার দিনকে সাধারণ দিনের মতো না নিয়ে আলাদা যত্নসহকারে প্রস্তুত হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনে নামাজের আগে গোসলের গুরুত্ব বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিত।
- খুতবার সময় মসজিদে দেরিতে প্রবেশ করা ভালো আদবের সঙ্গে যায় না।
- জুমার প্রস্তুতি শুধু ওযূ নয়; হাদিসে গোসলের কথাও জোর দিয়ে এসেছে।
- ব্যস্ততা থাকলেও জুমার আযানের পর দ্রুত নামাজের দিকে মন দেওয়া দরকার।
