৩/১৮. অধ্যায়ঃ
নামাযে এরূপ কোন বস্তুর দিকে দেখা যা নামায হতে মনোযোগ দূরে সরিয়ে দেয় অথবা অন্য দিকে ব্যস্ত রাখে
নামাজে মনোযোগ নষ্ট হলে সম্পদের ফিতনা চিনে নেওয়া
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২১৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২১৪
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيَّ كَانَ يُصَلِّي فِي حَائِطِهِ فَطَارَ دُبْسِيٌّ فَطَفِقَ يَتَرَدَّدُ يَلْتَمِسُ مَخْرَجًا فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ فَجَعَلَ يُتْبِعُهُ بَصَرَهُ سَاعَةً ثُمَّ رَجَعَ إِلَى صَلَاتِهِ فَإِذَا هُوَ لَا يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَقَالَ لَقَدْ أَصَابَتْنِي فِي مَالِي هَذَا فِتْنَةٌ فَجَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ لَهُ الَّذِي أَصَابَهُ فِي حَائِطِهِ مِنْ الْفِتْنَةِ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ هُوَ صَدَقَةٌ لِلَّهِ فَضَعْهُ حَيْثُ شِئْتَ.
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর (র) হতে বর্ণিতঃ
আবূ তালহা আনসারী (রাঃ) একবার তাঁর এক বাগানে নামায আদায় করতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়তে শুরু করল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজে পাচ্ছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বের হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল। এই দৃশ্য তাঁর খুব ভাল লাগল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াল) তিনি (তখন) স্বরণ করতে পারলেন না যে, নামায কত রাক’আত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তাঁর সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন।তারপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহা সেখানে ব্যয় করুন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি নিজের বাগানে নামাজ পড়ছিলেন। তখন একটি ছোট পাখি উড়ছিল এবং ঘন বাগানে বের হওয়ার পথ খুঁজছিল। দৃশ্যটি তাঁর ভালো লাগে, তাই তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর নামাজে ফিরে এসে দেখেন, কত রাকাআত পড়েছেন তা মনে নেই। তখন তিনি বলেন, এই সম্পদ তাঁকে পরীক্ষায় ফেলেছে। তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে ঘটনা বলেন এবং বাগানটি আল্লাহর জন্য সদকা হিসেবে দেন। এই হাদিসে নামাজে মনোযোগের গুরুত্ব, দুনিয়ার জিনিসে মন আটকে যাওয়ার আশঙ্কা এবং ভুল বুঝে আল্লাহর পথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা আছে। তবে এখানে শিক্ষা আবূ তালহা (রাঃ)-এর নির্দিষ্ট ঘটনার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে মনোযোগ সরিয়ে দেয় এমন দৃশ্যও পরীক্ষা হতে পারে।
- সম্পদে মন আটকে গেলে নিজের অবস্থা নিয়ে ভাবা দরকার।
- ভুল বুঝে আল্লাহর পথে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রশংসনীয়।
- নামাজে রাকাআত ভুলে গেলে মনোযোগের কারণ খুঁজে দেখা উচিত।
