১/৫. অধ্যায়ঃ
নামাযের সময় সম্পর্কীয় বিবিধ রেওয়ায়ত
আসরের নামায ফাউত হলে কেন বড় ক্ষতি হয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الَّذِي تَفُوتُهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهََََُ.
নাফি’ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তির আসরের নামায ফাউত হয়েছে তবে যেন তার পরিবার-পরিজন ও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে (অর্থাৎ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ হারালে যেমন ক্ষতি হয় তদ্রুপ ক্ষতি হয়েছে)। (বুখারী ৫৫২, মুসলিম ৬২৬)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসরের নামাযের গুরুত্ব খুব শক্ত ভাষায় বোঝানো হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত কথায় বলা হয়েছে, যার আসরের নামায ফাউত হলো, তার যেন পরিবার-পরিজন ও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হলো। এখানে উদ্দেশ্য হলো, আসর নামায ছুটে যাওয়া ছোট বিষয় নয়। মানুষ পরিবার ও সম্পদ হারালে যেমন বড় ক্ষতি মনে করে, নামাযের সময় নষ্ট হওয়াকেও তেমন গভীর ক্ষতি হিসেবে দেখা দরকার। তাই আসরের নামাযের সময় হলে কাজ, ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে দেরি না করা উচিত। এই বর্ণনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যে আসর নামায বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে আদায় করার বিষয়। তবে ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়; হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সময়মতো আসর পড়া এবং নামায ফাউত হওয়াকে বড় ক্ষতি মনে করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আসরের নামায সময়মতো আদায় করা মুসলিম জীবনের গুরুতর দায়িত্ব।
- নামায ফাউত হওয়াকে সাধারণ ক্ষতি নয়, বড় আধ্যাত্মিক ক্ষতি হিসেবে দেখা উচিত।
- পরিবার ও সম্পদের ক্ষতির মতোই নামাযের ক্ষতি মানুষকে সচেতন করার ভাষায় বোঝানো হয়েছে।
- ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে আসরের নামায অবহেলা করা উচিত নয়।
