৩/১৫. অধ্যায়ঃ
দুই রাক’আত পড়ার পর ভুলবশত কেউ সালাম ফিরালে তার কি করা কর্তব্য
নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করার নিয়ম
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২০৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২০৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ مِنَ اثْنَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ ذُو الْيَدَيْنِ أَقَصُرَتْ الصَّلَاةُ أَمْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ.
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দুই রাক’আত (পড়িয়া) নামায সমাপ্ত করলেন, তখন যুল-ইয়াদায়ন [১] (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! নামায সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না আপনার ভুল হয়েছে ? এটা শুনে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত মুসল্লিদের সম্বোধন করে বললেন, যুল-ইয়াদায়ন ঠিক বলেছেন কি ? লোকেরা বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠলেন এবং শেষের দু’ রাক’আত আদায় করলেন; তারপর (একদিকে) সালাম ফিরিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদা করলেন, পূর্বের মত (সিজদা) অথবা তা হতে দীর্ঘ সিজদা। অতঃপর (পবিত্র) শির উঠালেন, পুনরায় তাকবীর বলে সিজদায় গেলেন, পূর্বের (সিজদার) মত অথবা তা হতে দীর্ঘ সিজদা, অতঃপর (পবিত্র) শির উঠালেন। (বুখারী ৭১৪, মুসলিম ৫৭৩)
[১] যুল-ইয়াদায়ন সাহাবীর নাম খিরবাক (রা)। তাঁর হাত কিছুটা লম্বা ছিল বলে তাঁকে যুল-ইয়াদায়ন (দুই হাতধারী) বলা হত অথবা তিনি নিজ হাতের শ্রম দ্বারা উপার্জন করতেন বা দান খয়রাত করতেন। তাই তিনি যুল-ইয়াদায়ন উপাধি লাভ করেছিলেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজে ভুল হলে কীভাবে তা ঠিক করা যায়, তার একটি স্পষ্ট ঘটনা আছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাআত পড়ে নামাজ শেষ করলে যুল-ইয়াদায়ন (রাঃ) বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করেন, নামাজ কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না ভুল হয়েছে? নাবী (স.) সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদের জিজ্ঞেস করেন। তারা হ্যাঁ বললে তিনি উঠে বাকি দুই রাকাআত আদায় করেন। এরপর সালাম ফিরিয়ে তাকবীর বলে দুইটি সিজদা করেন। এই হাদিসে সাহু সিজদার শিক্ষা যেমন আছে, তেমনি ভুল ধরা পড়লে যাচাই করে নামাজ পূর্ণ করার আদবও আছে। এখানে কারও কথা শুনে তাড়াহুড়া নয়, বরং উপস্থিতদের কাছে নিশ্চিত হয়ে কাজ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে ভুল হলে তা ঠিক করার সুযোগ আছে।
- ভুল বুঝতে পারলে বাকি নামাজ পূর্ণ করা যায়।
- সাহু সিজদা নামাজে ভুল সংশোধনের একটি পদ্ধতি।
- কোনো ভুল জানালে তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
