৩/১৪. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি (রুকু ‘অথবা সিজদা হতে) ইমামের পূর্বে মাথা উত্তোলন করে তার কি করতে হবে
ইমামের আগে রুকু-সিজদা না করার নামাজের আদব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২০২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২০২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ مَلِيحِ بْنِ عَبْدِ اللهِ السَّعْدِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَخْفِضُهُ قَبْلَ الْإِمَامِ فَإِنَّمَا نَاصِيَتُهُ بِيَدِ شَيْطَانٍ ৩قَالَ مَالِك فِيمَنْ سَهَا فَرَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ فِي رُكُوعٍ أَوْ سُجُودٍ إِنَّ السُّنَّةَ فِي ذَلِكَ أَنْ يَرْجِعَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا وَلَا يَنْتَظِرُ الْإِمَامَ وَذَلِكَ خَطَأٌ مِمَّنْ فَعَلَهُ لِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَخْفِضُهُ قَبْلَ الْإِمَامِ إِنَّمَا نَاصِيَتُهُ بِيَدِ شَيْطَانٍ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা তোলে অথবা ঝোঁকায় তার কপাল শয়তানের হাতে। (মাওকুফ, হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, যে ব্যক্তি ভুলবশত রুকূ-সিজদায় ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়েছে তার বিষয়ে সুন্নাহ বা নিয়ম হল, সে পুনরায় রুকূ অথবা সিজদায় ফিরে যাবে। এতে সে ইমামের অপেক্ষা করবে না। কেননা যে ব্যক্তি এটা করেছে, সে ভুল করেছে। কারণ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে। কাজেই তোমরা ইমামের বরখেলাফ করো না। আবূ হুরায়রা (রা) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা উঠায় অথবা ঝোঁকায় তার কপাল শয়তানের হাতে। (বুখারী ৭২২, মুসলিম ৪১৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামাতে নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব শেখানো হয়েছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা তোলে বা ঝোঁকায়, তার কপাল শয়তানের হাতে। এর ভাষা কঠোর সতর্কতার মতো, যাতে মুসল্লি ইমামের আগে রুকু বা সিজদা না করে। মালিক (র) বলেন, কেউ ভুলে ইমামের আগে রুকু বা সিজদা থেকে মাথা তুলে ফেললে সে আবার রুকু বা সিজদায় ফিরে যাবে। সে ইমামের জন্য অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকবে না। কারণ এমন কাজ ভুল। হাদিসে আরও এসেছে, ইমামকে অনুসরণ করার জন্যই নিযুক্ত করা হয়েছে। তাই নামাজে ইমামের বরখেলাফ করা যাবে না। এই শিক্ষা জামাতে নামাজের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও অনুসরণের গুরুত্ব পরিষ্কার করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে নামাজে ইমামের আগে রুকু বা সিজদা করা উচিত নয়।
- ভুলে আগে উঠে গেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে।
- ইমামকে অনুসরণ করাই জামাতের মূল নিয়ম।
- নামাজে তাড়াহুড়া শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে।
