৩/১২. অধ্যায়ঃ
নামাযে বসা
তাশাহহুদে বসার সুন্নত: ডান পা খাড়া, বাম পা বিছানো
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৯৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৯৬
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ يَرَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يَتَرَبَّعُ فِي الصَّلَاةِ إِذَا جَلَسَ قَالَ فَفَعَلْتُهُ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ فَنَهَانِي عَبْدُ اللهِ وَقَالَ إِنَّمَا سُنَّةُ الصَّلَاةِ أَنْ تَنْصِبَ رِجْلَكَ الْيُمْنَى وَتَثْنِيَ رِجْلَكَ الْيُسْرَى فَقُلْتُ لَهُ فَإِنَّكَ تَفْعَلُ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّ رِجْلَيَّ لَا تَحْمِلَانِي.
আবদুর রহমান ইবনু কাসিম (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (র) তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ)-কে নামাযে বসাকালে পিঁড়িতে বসার মত (চার জানু) হয়ে বসতে দেখতেন। তিনি আরও বলেছেন, আমিও (তা দেখে) সেভাবে বসলাম। তখন আমি তরুণ। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) আমাকে (এভাবে বসতে) নিষেধ করলেন এবং বললেন, নামাযের সুন্নত হচ্ছে ডান পা খাড়া রেখে বাম পা বিছিয়ে দেওয়া। আমি বলে উঠলাম আপনি যে এইরূপ করেন (পিঁড়িতে বসার মত বসেন?) তিনি বললেন আমার পা দুটো (বসবার সময়) আমার ভার বহন করতে অক্ষম। (সহীহ, বুখারী ৮২৭)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাশাহহুদে বসার সুন্নত খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (র) বলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-কে নামাজে বসার সময় পিঁড়ির মতো বসতে দেখতেন। তিনি নিজেও তরুণ বয়সে তা অনুসরণ করেন। তখন ইবনু উমার (রাঃ) তাকে নিষেধ করেন এবং বলেন, নামাজের সুন্নত হলো ডান পা খাড়া রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে দেওয়া। তিনি যখন প্রশ্ন করলেন, আপনি তো এভাবে বসেন, তখন ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, তাঁর পা দুটো তাঁর ভার বহন করতে পারে না। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সুন্নত শেখার ক্ষেত্রে বাহ্যিক দেখা যথেষ্ট নয়; কারণ জানাও প্রয়োজন। অসুবিধাজনিত কাজকে সাধারণ নিয়ম বানানো ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাশাহহুদে ডান পা খাড়া রাখা ও বাম পা বিছানো সুন্নত হিসেবে এসেছে।
- ইবনু উমার (রাঃ) তরুণকে ভুলভাবে অনুসরণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।
- অসুস্থতার কারণে করা কাজকে সাধারণ সুন্নত বলা যায় না।
- নামাজের বসা শেখার সময় কারণসহ বুঝতে হবে।
