৫২/১. অধ্যায়ঃ
স্বপ্ন প্রসঙ্গ
ভাল স্বপ্নের মর্যাদা: নেককার মানুষের সত্য স্বপ্নের হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭২১
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنْ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِ ذَلِكَ
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নেককার মানুষের ভাল স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ সমতুল্য। [১] (সহীহ, বুখারী ৬৯৮৩)আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ (হাদীস) করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] যেকোন ব্যক্তির স্বপ্ন যে ঠিক হবে, এমন কথা বলা যায় না। তবে নেককার মানুষের ভাল স্বপ্ন সাধারণত ঠিক হয় অর্থাৎ যা দেখে তাই হয়। অত্র হাদীসে অনুরূপ স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে যে, যদি স্বপ্ন ভাল হয় এবং নেককার মানুষের হয় আর উহার তা‘বীর মুতাবিক ফলাফলও সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তা হলে সেই স্বপ্নের মর্যাদা এত অধিক যে, উহা নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ সমতুল্য। কিন্তু নবুয়তকে ভাগ করা যায় না। তাই এখানে নবুয়তের সময়কে ভাগ করতে হবে। অতএব নবুয়তের মোট সময় ছিল তেইশ বৎসর। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের ছয় মাস পর্যন্ত সত্য স্বপ্ন দেখেছিলেন। সুতরাং এই ছয় মাসকে এক ভাগ ধরলে মোট তেইশ বৎসরের ছেচল্লিশ ভাগ হয়। তাই অত্র হাদীসে বলা হয়েছে যে, নেককার মানুষের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগের সমান।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেককার মানুষের ভাল স্বপ্নের মর্যাদা বলেছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ভাল স্বপ্ন সাধারণ কোনো বিষয় নয়; বরং তা নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাই স্বপ্ন নিয়ে কথা বলার সময় হালকা মনোভাব রাখা ঠিক নয়, আবার অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করাও ঠিক নয়। হাদিসে বিশেষভাবে নেককার মানুষের ভাল স্বপ্নের কথা এসেছে। অর্থাৎ স্বপ্নের মূল্য বুঝতে হলে স্বপ্নদ্রষ্টার দ্বীনদারি ও স্বপ্নের ভাল দিক বিবেচ্য। এই হাদিস মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে আল্লাহ কখনো কখনো তাঁর নেক বান্দাকে ভাল স্বপ্নের মাধ্যমে সুসংবাদ বা শান্তি দান করেন। তবে এটিকে নতুন বিধান বানানোর জায়গা মনে করা যাবে না; হাদিসে কেবল তার মর্যাদা বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেককার মানুষের ভাল স্বপ্নের একটি বিশেষ মর্যাদা আছে।
- ভাল স্বপ্নকে অবহেলা না করে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করা উচিত।
- স্বপ্নের নামে বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়; হাদিসে যতটুকু এসেছে ততটুকুই বলা উচিত।
