৫১/১. অধ্যায়ঃ
চুলের সুন্নত প্রসঙ্গে
ইয়াতীম লালন-পালনের ফজিলত ও জান্নাতের নিকটতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭০৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭০৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ إِذَا اتَّقَى وَأَشَارَ بِإِصْبُعَيْهِ الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ
সাফওয়ান ইবনু সুলাইম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি ও ইয়াতীমের অভিভাবক -- এই অভিভাবক সংশ্লিষ্ট ইয়াতীমের আত্মীয় হোক কিংবা অনাত্মীয়, যদি তারা আল্লাহ্কে ভয় করে, তবে বেহেশতে আমরা একে অপরের এমন নিকট হব যেমন এই দুইটি আঙ্গুল। এই বলে তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ সা.) শাহাদতের অঙ্গুলি ও মধ্যমার দিকে ইঙ্গিত করলেন। [১] (বুখারী ৬০০৫, মুসলিম ২৯৮৩)
[১] অর্থাৎ ইয়াতীমের অভিভাবক যদি আল্লাহভীরু হয় এবং ইয়াতীমের মালের রক্ষণাবেক্ষণে ঈমানদারী ও আল্লাহ্ভীরুতার পরিচয় দেয়, তা হলে সে বেহেশতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পার্শ্বেই অবস্থান করবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়াতীমের অভিভাবকের বড় মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিনি এবং ইয়াতীমের অভিভাবক জান্নাতে খুব কাছাকাছি থাকবেন, যদি সেই অভিভাবক আল্লাহকে ভয় করে। অভিভাবকটি ইয়াতীমের আত্মীয়ও হতে পারে, অনাত্মীয়ও হতে পারে। তিনি এই নিকটতা বোঝাতে শাহাদতের আঙুল ও মধ্যমা আঙুলের দিকে ইশারা করেছেন। ইয়াতীম লালন পালনের ফজিলত, ইয়াতীমের দায়িত্ব, ইয়াতীমের হক—এসব বিষয়ে এই হাদিস খুব হৃদয়স্পর্শী। তবে শর্তটি ভুলে গেলে চলবে না: এখানে আল্লাহভীতির কথা এসেছে। তাই ইয়াতীমের দায়িত্ব শুধু ভরণপোষণ নয়, বরং আমানতদারির সঙ্গে করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীমের অভিভাবক হওয়া বড় মর্যাদার কাজ।
- আত্মীয় বা অনাত্মীয়—দুই ধরনের অভিভাবকের কথাই হাদিসে এসেছে।
- ইয়াতীমের দায়িত্ব পালনে আল্লাহভীতি জরুরি।
