৫০/৪. অধ্যায়ঃ
রোগমুক্তির জন্য তা‘বীয বা ঝাড়ফুঁক করা প্রসঙ্গে
কালামুল্লাহ দিয়ে রুকইয়া: অসুস্থতায় কুরআনী দমের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৯৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৯৬
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ وَهِيَ تَشْتَكِي وَيَهُودِيَّةٌ تَرْقِيهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ارْقِيهَا بِكِتَابِ اللهِ
‘আমরাহ্ বিনতে আবদুর রহমান (রা) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বাকর সিদ্দীক (রা) আয়িশা (রা)-এর কাছে গেলেন। তখন তিনি (আয়িশা) অসুস্থ ছিলেন এবং জনৈক ইহুদী মহিলা (কিছু) পাঠ করে তাঁর উপর দম করিতেছিলেন। আবূ বাকর (রা) বললেন, কালামুল্লাহ্ (তাওরাত বা কুরআন) পড়ে দম কর। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ বাকর সিদ্দীক (রা) আয়িশা (রা)-এর কাছে যান। তখন আয়িশা (রা) অসুস্থ ছিলেন এবং এক ইহুদী মহিলা তাঁর উপর কিছু পড়ে দম করছিলেন। আবূ বাকর (রা) বলেন, কালামুল্লাহ পড়ে দম কর। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রুকইয়া বা দম করার ক্ষেত্রে আল্লাহর কালামের গুরুত্ব। বর্ণনায় কালামুল্লাহ বলতে কুরআন বা পূর্বের আসমানি কিতাবের কথা উল্লেখ আছে, তবে মুসলিমদের জন্য কুরআনই সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিষ্কার পথ। এই হাদিস অজানা বাক্য, অস্পষ্ট মন্ত্র বা সন্দেহজনক কথার বদলে আল্লাহর বাণী দিয়ে দোয়া করার শিক্ষা দেয়। রোগের সময় মানুষ সাহায্য খোঁজে, কিন্তু সেই সাহায্য যেন ঈমান, তাওহীদ ও বৈধ সীমার ভেতরে থাকে—এটাই এই বর্ণনার মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকইয়ায় আল্লাহর কালাম ব্যবহার করা নিরাপদ ও উত্তম পথ।
- অসুস্থতায় দোয়া ও কুরআন পাঠের গুরুত্ব আছে।
- অস্পষ্ট বা সন্দেহজনক বাক্য দিয়ে দম করা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- চিকিৎসার পাশাপাশি ঈমানসম্মত দোয়ার পথ গ্রহণ করা উচিত।
