৫০/৪. অধ্যায়ঃ
রোগমুক্তির জন্য তা‘বীয বা ঝাড়ফুঁক করা প্রসঙ্গে
সূরা ফালাক ও নাস দিয়ে রুকইয়া: অসুস্থতায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৯৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৯৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اشْتَكَى يَقْرَأُ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ وَيَنْفِثُ قَالَتْ فَلَمَّا اشْتَدَّ وَجَعُهُ كُنْتُ أَنَا أَقْرَأُ عَلَيْهِ وَأَمْسَحُ عَلَيْهِ بِيَمِينِهِ رَجَاءَ بَرَكَتِهَا
আয়িশা (রা) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই অসুস্থ হতেন, তখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে (নিজের উপর) ঝাড়ফুঁক করতেন। আয়িশা (রা) বলেন, (মৃত্যুর পূর্বে) যখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যথা অধিক হত, তখন আমি নিজে সেই সূরাদ্বয় পড়ে বরকতের জন্য তাঁর (প্রিয় নবীর) ডান হাত দিয়ে মালিশ করে দিতাম। (বুখারী ৫০১৬, মুসলিম ২১৯২)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে মুআউব্বিজাত—অর্থাৎ সূরা ফালাক ও সূরা নাস—পড়ে নিজের উপর দম করতেন। মৃত্যুর আগে যখন তাঁর ব্যথা বেশি হয়ে যায়, তখন আয়িশা (রা) নিজে সেই সূরাগুলো পড়ে তাঁর উপর দম করতেন এবং বরকতের আশায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর ডান হাত দিয়ে তাঁর শরীরে মালিশ করে দিতেন। এখানে শিক্ষা হলো, কুরআনের আয়াত দিয়ে রুকইয়া করা বৈধ ও বরকতময় আমল। অসুস্থতায় দোয়া, কুরআন পাঠ ও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া মুমিনের জন্য বড় সান্ত্বনা। এই হাদিসে অতিরিক্ত কোনো মন্ত্র বা অজানা পদ্ধতির কথা নেই; বরং পরিচিত কুরআনী সূরা দিয়ে সহজ রুকইয়ার কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থতায় সূরা ফালাক ও নাস পড়ে দম করা বৈধ আমল।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم নিজেও অসুস্থতায় কুরআন পড়ে রুকইয়া করতেন।
- পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে কুরআন পড়ে দোয়া করা যায়।
- রুকইয়ায় কুরআন ও আল্লাহর আশ্রয়ের গুরুত্ব আছে।
