৪৯/১১. অধ্যায়ঃ
গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
গোশত খাওয়ায় সংযম: উমার (রা)-এর সতর্কতা ও প্রতিবেশীর হক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৮২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৮২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ إِيَّاكُمْ وَاللَّحْمَ فَإِنَّ لَهُ ضَرَاوَةً كَضَرَاوَةِ الْخَمْرِو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِأَدْرَكَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ وَمَعَهُ حِمَالُ لَحْمٍ فَقَالَ مَا هَذَا فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَرِمْنَا إِلَى اللَّحْمِ فَاشْتَرَيْتُ بِدِرْهَمٍ لَحْمًا فَقَالَ عُمَرُ أَمَا يُرِيدُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَطْوِيَ بَطْنَهُ عَنْ جَارِهِ أَوْ ابْنِ عَمِّهِ أَيْنَ تَذْهَبُ عَنْكُمْ هَذِهِ الْآيَةُ{ أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمْ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا }
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (র) হতে বর্ণিতঃ
উমার ইব্নু খাত্তাব (রা) বলেছেন, গোশত খাওয়া হতে বিরত থাক। কেননা শরাবের (মদের) মতো গোশত খাওয়ারও একটা নেশা হয়। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (র) বলেন, উমার ইব্নু খাত্তাব (রা) জাবির ইব্নু আবদুল্লাহ আনসারী (রা)-কে এমন অবস্থায় দেখলেন যে, তখন তার (জাবিরের) সাথে গোশতের একটা পূর্ণ থলি ছিল। উমার (রা) জিজ্ঞেস করলেন, ইহা কি? জাবির (রা) জওয়াব দিলেন, ইয়া আমীরুল মু‘মিনীন! আমার গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হল, তাই এক দিরহামের গোশত ক্রয় করলাম। উমার (রা) বললেন, তোমাদের কেউই ইহা চায় না যে, নিজে না খেয়ে প্রতিবেশীকে খাওয়াবে কিংবা তার চাচাত ভাইকে দিবে। তোমাদের নিকট হতে এই আয়াতটি কোথায় গেল (যেখানে বলা হয়েছে যে) أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ তোমরা পার্থিব জীবনে দুনিয়ার স্বাদ উপভোগ করলে এবং বেশ উপকৃত হলে (অতএব আজ উহার পরিণাম ভোগ কর)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] উদ্দেশ্য এই যে, গোশত খাওয়া যদিও ভাল, কিন্তু এমনভাবে খাওয়া ভাল নয়, উহা অভ্যাসে পরিণত হয়। এমন কি উহা ব্যতীত আর কিছু খেতেই মনে চায় না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার ইব্নু খাত্তাব (রা) গোশত খাওয়ার ব্যাপারে সংযমের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গোশতেরও এক ধরনের আসক্তি তৈরি হতে পারে। এখানে গোশত হারাম বলা হয়নি; বরং অতিরিক্ত ভোগ, অভ্যাসের দাস হওয়া এবং নিজের চাহিদাকে সব সময় আগে রাখার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। জাবির (রা)-এর হাতে গোশতের থলি দেখে উমার (রা) প্রশ্ন করেন, কেউ কি নিজের পেট সামলে প্রতিবেশী বা আত্মীয়কে দেওয়ার কথা ভাবে না? এরপর তিনি দুনিয়ার স্বাদ উপভোগের আয়াত স্মরণ করান। এই হাদিস আমাদের খাদ্যসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং পাশের মানুষের প্রয়োজন বোঝার শিক্ষা দেয়। নিজের ইচ্ছা পূরণ করা বৈধ হলেও, মুমিনের মন শুধু নিজের খাওয়ার দিকে নয়, অন্যের দিকেও খেয়াল রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারে সংযম রাখা মুমিনের সুন্দর অভ্যাস।
- নিজের ইচ্ছা পূরণের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের প্রয়োজন মনে রাখা উচিত।
- ভোগের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- দুনিয়ার স্বাদ উপভোগ করলেও আখিরাতের জবাবদিহি ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
