৪৯/১০. অধ্যায়ঃ
পানাহার সম্বন্ধীয় বিবিধ বর্ণনা
খাবার ও পানীয়ের পর দোয়া: শোকর ও বরকতের আবেদন
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৮০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৮০
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِأَنَّهُ كَانَ لَا يُؤْتَى أَبَدًا بِطَعَامٍ وَلَا شَرَابٍ حَتَّى الدَّوَاءُ فَيَطْعَمَهُ أَوْ يَشْرَبَهُ إِلَّا قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا وَأَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَنَعَّمَنَا اللهُ أَكْبَرُ اللهُمَّ أَلْفَتْنَا نِعْمَتُكَ بِكُلِّ شَرٍّ فَأَصْبَحْنَا مِنْهَا وَأَمْسَيْنَا بِكُلِّ خَيْرٍ فَنَسْأَلُكَ تَمَامَهَا وَشُكْرَهَا لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ إِلَهَ الصَّالِحِينَ وَرَبَّ الْعَالَمِينَ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مَا شَاءَ اللهُ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيمَا رَزَقْتَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
বর্ণণাকারী হতে বর্ণিতঃ
উরওয়া ইব্নু যুবাইর (রা)-এর কাছে যখন কোন খাবার কিংবা পানীয় বস্তু আসত, এমন কি ঔষধও আসত, তবে তিনি উহা খেতেন এবং পান করতেন আর বলতেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি আমাদেরকে হিদায়াত করেছেন, খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং নিয়ামত দান করেছেন। তিনি সর্বাপেক্ষা বড়। হে পরওয়ারদিগার! তোমার নিয়ামত আমরা তখন পেয়েছি, যখন আমরা পাপাচারে লিপ্ত ছিলাম। সেই নিয়ামতেই সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করেছি। আমরা তোমার কাছে সেই নিয়ামত আমাদের জন্য পূর্ণ করে দিতে এবং আমাদেরকে শোকর আদায় করার তৌফিক দানের প্রার্থনা করছি। তোমার উত্তম (দানের) চাইতে আর কিছুই উত্তম নাই এবং তুমি ব্যতীত কোনই মাবুদ নেই। হে নেক বান্দাদের এবং সারা জাহানের প্রতিপালক! সমস্ত প্রশংসা (তুমি) আল্লাহর জন্যই, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনই মা’বুদ নেই। আল্লাহ্ যা চান তাই হয়, আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নেই। হে পরওয়ারদিগার! আমাদের রুজি-রোজগারে বরকত দাও এবং আমাদেরকে দোযখের আযাব হতে রক্ষা কর। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উরওয়া ইব্নু যুবাইর (র)-এর আমলের কথা এসেছে। তাঁর কাছে যখন খাবার, পানীয়, এমনকি ঔষধও আসত, তিনি তা খেয়ে বা পান করে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তিনি আল্লাহকে হিদায়াত, খাবার, পানীয় ও নিয়ামতের জন্য ধন্যবাদ দিতেন। দোয়ায় তিনি নিয়ামত পূর্ণ করে দেওয়ার, শোকর আদায়ের তৌফিক দেওয়ার, রিজিকে বরকত দেওয়ার এবং দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করার প্রার্থনা করতেন। এই বর্ণনা রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সরাসরি উক্তি নয়; বরং উরওয়া (র)-এর আমল। তাই এটিকে খাবারের পর শোকর ও দোয়ার একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার-পানীয় গ্রহণের পর আল্লাহর শোকর করা ভালো আমল।
- রিজিকের বরকত ও আখিরাতের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা উচিত।
- ঔষধও আল্লাহর নিয়ামত; তা গ্রহণের পরও শোকর করা যায়।
