৪৮/৪. অধ্যায়ঃ
মহিলাদের জন্য কোন্ কোন্ কাপড় নিষেধ
ফিতনা ও রাতের ইবাদত হাদিস: ঘরের লোকদের জাগানোর শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৩৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৩৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ مِنْ اللَّيْلِ فَنَظَرَ فِي أُفُقِ السَّمَاءِ فَقَالَ مَاذَا فُتِحَ اللَّيْلَةَ مِنْ الْخَزَائِنِ وَمَاذَا وَقَعَ مِنْ الْفِتَنِ كَمْ مِنْ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْقِظُوا صَوَاحِبَ الْحُجَرِ
ইবনু শিহাব (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্রে জাগরিত হলেন এবং আকাশের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা এই রাত্রে কত ধনাগার খুলে দিয়েছেন এবং কত ফিতনা অবতীর্ণ করেছেন। পৃথিবীতে অনেক কাপড় পরিধানকারিণী স্ত্রীলোক পরকালে উলঙ্গ অবস্থায় উঠবে। [১] যারা কক্ষে রয়েছে তাদেরকে জাগিয়ে দাও (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য)। (সহীহ, ইমাম বুখারী উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেন ১১৫, তবে ইমাম মালিক একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] অর্থাৎ আমার উম্মতদের জন্য ধনাগাব খুলে দেয়া হয়েছে, সাথে সাথে ফিতনা-ফাসাদও অবতীর্ণ হয়েছে। যে সকল নারী অতি পাতলা কাপড় পরে সৌন্দর্য প্রদর্শন করে তারা আখেতে উলঙ্গ থাকবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি রাতের ঘটনা এসেছে। তিনি এক রাতে জাগ্রত হয়ে আকাশের দিকে তাকালেন এবং বললেন, এই রাতে কত ধনাগার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং কত ফিতনা অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক কাপড় পরিধানকারিণী নারী কিয়ামতের দিন উলঙ্গ অবস্থায় উঠবে। তারপর ঘরে থাকা নারীদের জাগিয়ে দিতে বলেন, অর্থাৎ ইবাদতের জন্য। ফিতনা ও রাতের ইবাদত হাদিস হিসেবে এটি আমাদের সতর্ক করে যে দুনিয়ার সুযোগ ও ফিতনা একসঙ্গে আসতে পারে। তাই শুধু বাহ্যিক জীবন নয়, আখিরাতের প্রস্তুতিও দরকার। ঘরের মানুষকে ভালো কাজে জাগানো, বিশেষ করে ইবাদতের দিকে ডাকাও এই বর্ণনার একটি কোমল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনা নেমে আসার কথা শুনে সতর্ক হওয়া দরকার।
- দুনিয়ার বাহ্যিক পোশাক আখিরাতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
- রাতের ইবাদতের জন্য ঘরের লোকদের জাগানো ভালো কাজ।
- দুনিয়ার নিয়ামত ও পরীক্ষার মাঝে আখিরাতের কথা মনে রাখা উচিত।
