৩/৪. অধ্যায়ঃ
নামাযের আরম্ভ
নামাজের তাকবীর: উঠা-বসার সময় আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬২
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শুরু করার সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন এবং যখন রুকূ হতে মাথা তুলতেন তখনও দুই হাত অনুরূপভাবে তুলতেন এবং বলতেন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অবশ্য সিজদার সময় তিনি হাত তুলতেন না। (বুখারী ৭৩৫, মুসলিম ৩৯০)
আলী ইবনু হুসায়ন আলী ইবনু আবি তালিব (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে যখন নিচের দিকে ঝুঁকতেন ও মাথা উপরে তুলতেন তখন ‘তাকবীর’ বলতেন। তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত এভাবে নামায আদায় করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজের তাকবীর নিয়ে একটি সহজ শিক্ষা পাওয়া যায়। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের মধ্যে যখন নিচের দিকে ঝুঁকতেন এবং যখন মাথা উপরে তুলতেন, তখন তাকবীর বলতেন। তাকবীর মানে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা। নামাজ শুধু শরীরের নড়াচড়া নয়; প্রতিটি নড়াচড়ার সঙ্গে আল্লাহর স্মরণ জড়িয়ে আছে। বর্ণনায় আরও এসেছে, তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত এভাবেই নামাজ আদায় করেছেন। তাই নামাজের উঠা-বসায় তাকবীর বলা শুধু অভ্যাসের বিষয় নয়, বরং নবীজির অনুসরণ করার একটি সুন্দর পথ। এই হাদিস নামাজের আদব শিখতে খুব সহায়ক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে নিচু হওয়া ও মাথা তোলার সময় তাকবীর বলার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- তাকবীরের মাধ্যমে নামাজের ভঙ্গিগুলো আল্লাহর স্মরণের সাথে যুক্ত হয়।
- নবীজির নামাজের ধারাবাহিক আমল অনুসরণ করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- নামাজের ছোট ছোট আমলও গুরুত্বের সাথে শেখা উচিত।
