৪৬/১. অধ্যায়ঃ
তকদীরের ব্যাপারে বিতর্ক করা নিষেধ
কদরিয়া মতবাদ: তাকদীর অস্বীকারের বিষয়ে সতর্কতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬০৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬০৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أَسِيرُ مَعَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِفَقَالَ مَا رَأْيُكَ فِي هَؤُلَاءِ الْقَدَرِيَّةِ فَقُلْتُ رَأْيِي أَنْ تَسْتَتِيبَهُمْ فَإِنْ تَابُوا وَإِلَّا عَرَضْتَهُمْ عَلَى السَّيْفِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَذَلِكَ رَأْيِيقَالَ مَالِك وَذَلِكَ رَأْيِي
আবূ সুহাইল ইব্নু মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তিনি উমার আবদুল আযীয (র)-এর সাথে কোথাও যাচ্ছিলেন। তিনি আবূ সুহাইলকে বললেন, কদরিয়া সম্বন্ধে তোমার মত কি ? আমি বললাম, আমার মত এই যে, তাদেরকে তাওবা করানো উচিত। যদি তারা তাওবা করে ফেলে, তবে তো ভাল, না হয় তাদেরকে হত্যা করা যেতে পারে। উমার (র) বলেন, তাদের সম্বন্ধে আমার মতও ইহাই। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, তাদের সম্বন্ধে আমারও মত এটাই।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কদরিয়া মতবাদ সম্পর্কে উমার ইবনু আবদুল আযীয (র), আবূ সুহাইল এবং ইমাম মালিক (র)-এর মত উল্লেখ করা হয়েছে। আবূ সুহাইল বলেন, তিনি উমার ইবনু আবদুল আযীয (র)-এর সাথে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁকে কদরিয়া সম্পর্কে মত জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, তাদেরকে তাওবা করতে বলা উচিত; তারা তাওবা করলে ভালো, না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। উমার (র) বলেন, তাঁর মতও তাই। ইমাম মালিক (র)-ও একই মত জানান। এই বর্ণনা তাকদীর অস্বীকারকে খুব গুরুতর ভ্রান্তি হিসেবে তুলে ধরে। ইসলামী স্কলারদের মতে, এমন শাস্তির বিষয় সাধারণ মানুষের হাতে নয়; এটি বৈধ কর্তৃপক্ষ ও বিচার-প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো—তাকদীরের বিশ্বাসকে হালকা করে দেখা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীর অস্বীকারকে পূর্ববর্তী আলেমরা গুরুতর ভ্রান্তি মনে করতেন।
- ভুল মত থেকে ফিরে আসার জন্য তাওবার সুযোগের কথা এসেছে।
- আকীদার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
- শাস্তির বিষয় ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি বিচার ও কর্তৃপক্ষের বিষয়।
