৪৩/৩. অধ্যায়ঃ
ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত, যখন নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস দিয়াতের উপর সম্মত হয় এবং পাগলের দিয়াত
উন্মাদের কিসাস নেই: কিসাস ও দায়বদ্ধতার বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৫৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৫৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَتَبَ إِلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّهُ أُتِيَ بِمَجْنُونٍ قَتَلَ رَجُلًا فَكَتَبَ إِلَيْهِ مُعَاوِيَةُ أَنْ اعْقِلْهُ وَلَا تُقِدْ مِنْهُ فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَى مَجْنُونٍ قَوَدٌقَالَ مَالِك فِي الْكَبِيرِ وَالصَّغِيرِ إِذَا قَتَلَا رَجُلًا جَمِيعًا عَمْدًا أَنَّ عَلَى الْكَبِيرِ أَنْ يُقْتَلَ وَعَلَى الصَّغِيرِ نِصْفُ الدِّيَةِقَالَ مَالِك وَكَذَلِكَ الْحُرُّ وَالْعَبْدُ يَقْتُلَانِ الْعَبْدَ فَيُقْتَلُ الْعَبْدُ وَيَكُونُ عَلَى الْحُرِّ نِصْفُ قِيمَتِهِ
ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (রা) হতে বর্ণিতঃ
মারওয়ান মু‘আবিয়াকে লিখলেন, আমার নিকট এক উন্মাদকে আনা হয়েছে, সে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। মু‘আবিয়া উত্তরে লিখলেন, তাকে বন্দী করে রাখ, তা হতে কিসাস নিয়ো না। কেননা উন্মাদের কিসাস নেই। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, যদি কোন বালেগ ও নাবালেগ মিলিত হয়ে কাউকেও ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে বালেগ হতে কিসাস নিয়ে হবে আর নাবালেগের উপর অর্ধদিয়াত ওয়াজিব হবে।মালিক (র) বলেন, যদি কোন স্বাধীন ও দাস মিলিত হয়ে কোন দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে গোলামকে তো কিসাসে হত্যা করা হবে, আর স্বাধীন ব্যক্তির উপর ঐ গোলামের অর্ধেক মূল্য ওয়াজিব হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কিসাসের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। মারওয়ান মু‘আবিয়াকে লিখেছিলেন যে, তার কাছে এক উন্মাদকে আনা হয়েছে, যে একজনকে হত্যা করেছে। মু‘আবিয়া উত্তরে লিখলেন, তাকে বন্দী করে রাখতে, কিন্তু তার কাছ থেকে কিসাস না নিতে; কারণ উন্মাদের ওপর কিসাস নেই। এরপর মালিক (র) বালেগ ও নাবালেগ একসঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে বালেগের কিসাস এবং নাবালেগের ওপর অর্ধদিয়াতের কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীন ব্যক্তি ও দাস মিলে কোনো দাসকে হত্যা করলে দাসকে কিসাসে হত্যা করা হবে এবং স্বাধীন ব্যক্তির ওপর ঐ দাসের অর্ধেক মূল্য ওয়াজিব হবে। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কিসাস, দায়বদ্ধতা এবং ব্যক্তি-অবস্থার ভিত্তিতে বিধান। এখানে কিসাসের বিধান বুঝতে মানসিক অবস্থা, বয়স এবং সামাজিক অবস্থার বিষয় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উন্মাদ ব্যক্তির ওপর কিসাস নেই বলে বর্ণনায় এসেছে।
- বালেগ ও নাবালেগের দায় একভাবে ধরা হয়নি।
- কিসাসের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনায় আসে।
- বিচারে শুধু কাজ নয়, কর্তার অবস্থা দেখার শিক্ষা পাওয়া যায়।
