৪১/৮. অধ্যায়ঃ
পলাতক দাস ও চোরের হাত কাটা সম্পর্কিত মাস‘আলা
পলাতক দাস চুরি করলে: কুরআনিক দলিল ও মূল্যসীমা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৩২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زُرَيْقِ بْنِ حَكِيمٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ أَخَذَ عَبْدًا آبِقًا قَدْ سَرَقَ قَالَ فَأَشْكَلَ عَلَيَّ أَمْرُهُ قَالَ فَكَتَبْتُ فِيهِ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِأَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ وَهُوَ الْوَالِي يَوْمَئِذٍ قَالَ فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّنِي كُنْتُ أَسْمَعُ أَنَّ الْعَبْدَ الْآبِقَ إِذَا سَرَقَ وَهُوَ آبِقٌ لَمْ تُقْطَعْ يَدُهُ قَالَ فَكَتَبَ إِلَيَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ نَقِيضَ كِتَابِي يَقُولُ كَتَبْتَ إِلَيَّ أَنَّكَ كُنْتَ تَسْمَعُ أَنَّ الْعَبْدَ الْآبِقَ إِذَا سَرَقَ لَمْ تُقْطَعْ يَدُهُ وَإِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ{ وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنْ اللهِ وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ } فَإِنْ بَلَغَتْ سَرِقَتُهُ رُبُعَ دِينَارٍ فَصَاعِدًا فَاقْطَعْ يَدَهُو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ وَعُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا سَرَقَ الْعَبْدُ الْآبِقُ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ قُطِعَقَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا أَنَّ الْعَبْدَ الْآبِقَ إِذَا سَرَقَ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ قُطِعَ
যুরায়ক ইব্নু হাকিম (র) হতে বর্ণিতঃ
তিনি একজন পলাতক গোলামকে ধরে ফেললেন যে চুরি করেছিল। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিচার করা আমার জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। আমি তজ্জন্য উমার ইব্নু আবদুল আযীয (র)-কে লিখলাম, আমি শুনিতেছি যখন পলাতক কোন দাস চুরি করে, তখন তার হাত কাটা যাবে না। তিনি বলেন, উমার (রা) আমার লেখার হাওলা দিয়ে উত্তরে লিখলেন, তুমি লিখেছ, তুমি শুনেছ, পলাতক দাস চুরি করলে তার হাত কাটা যাবে না, অথচ আল্লাহ্ তায়ালা স্বয়ং বলেছেন, চোর পুরুষ হোক বা নারী হোক, তার হাত কাট। ইহা তার ঐ কাজের শাস্তি আর আল্লাহ্র পক্ষ হতে আযাব। আল্লাহ্ ক্ষমতাবান হেকমতওয়ালা। যদি ঐ দাস এক দীনারের চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্ব চুরি করে, তবে তার হাত কেটে ফেল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)কেননা আল্লাহ পাক বলেন,وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنْ কাসেম ইব্নু মুহাম্মাদ, সালেম ইব্নু আবদুল্লাহ ও উরওয়া ইব্নু যুবায়ের (র) বলেন, যদি পলাতক দাস সেই পরিমাণ মাল চুরি করে যাতে হাত কাটা ওয়াজিব হয়, তবে তার হাত কাটা যাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, আমাদের মধ্যে এতে কোন মতপার্থক্য নেই যে, পলাতক দাস যদি চুরি করে এবং তার মূল্য যদি সেই পরিমাণ হয় যাতে হাত কাটা ওয়াজিব, তবে তার হাত কাটা যাবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পলাতক দাসের চুরির বিষয়ে আরও পরিষ্কার আলোচনা এসেছে। যুরাইক ইব্নু হাকীম এক পলাতক দাসকে ধরেন, যে চুরি করেছিল। বিষয়টি কঠিন মনে হওয়ায় তিনি উমার ইব্নু আবদুল আযীয (র)-কে লিখেন। তিনি জানান, শুনেছেন পলাতক দাস চুরি করলে হাত কাটা যায় না। উত্তরে উমার (র) কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, চোর পুরুষ ও চোর নারীর হাত কাটার বিধান আছে। এরপর তিনি বলেন, যদি চুরির মূল্য এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তার বেশি হয়, তাহলে হাত কাটা হবে। পরে কাসেম, সালেম ও উরওয়া (র)-এর কথাও এসেছে। হাদিসটি দেখায়, পলাতক দাসের ক্ষেত্রেও মূল্যসীমা পূরণ হলে চুরির বিধান প্রযোজ্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোনা কথা নয়, কুরআনিক দলিল বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি।
- পলাতক দাসের চুরিতেও মূল্যসীমা বিবেচিত হয়েছে।
- এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তার বেশি হলে শাস্তির কথা এসেছে।
- জটিল বিষয়ে জ্ঞানী শাসকের কাছে লিখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
