৪১/৭. অধ্যায়ঃ
কোন্ প্রকারের বস্তু চুরি করলে হাত কাটা ওয়াজিব হয়
চাদর চুরি, স্বীকারোক্তি ও এক-চতুর্থাংশ দীনারের বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৩০
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا قَالَتْخَرَجَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مَكَّةَ وَمَعَهَا مَوْلَاتَانِ لَهَا وَمَعَهَا غُلَامٌ لِبَنِي عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَبَعَثَتْ مَعَ الْمَوْلَاتَيْنِ بِبُرْدٍ مُرَجَّلٍ قَدْ خِيطَ عَلَيْهِ خِرْقَةٌ خَضْرَاءُ قَالَتْ فَأَخَذَ الْغُلَامُ الْبُرْدَ فَفَتَقَ عَنْهُ فَاسْتَخْرَجَهُ وَجَعَلَ مَكَانَهُ لِبْدًا أَوْ فَرْوَةً وَخَاطَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَدِمَتْ الْمَوْلَاتَانِ الْمَدِينَةَ دَفَعَتَا ذَلِكَ إِلَى أَهْلِهِ فَلَمَّا فَتَقُوا عَنْهُ وَجَدُوا فِيهِ اللِّبْدَ وَلَمْ يَجِدُوا الْبُرْدَ فَكَلَّمُوا الْمَرْأَتَيْنِ فَكَلَّمَتَا عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ كَتَبَتَا إِلَيْهَا وَاتَّهَمَتَا الْعَبْدَ فَسُئِلَ الْعَبْدُ عَنْ ذَلِكَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَتْ بِهِ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُطِعَتْ يَدُهُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ الْقَطْعُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًاو قَالَ مَالِك أَحَبُّ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ إِلَيَّ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ وَإِنْ ارْتَفَعَ الصَّرْفُ أَوْ اتَّضَعَ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَطَعَ فِي مِجَنٍّ قِيمَتُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ وَأَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَطَعَ فِي أُتْرُجَّةٍ قُوِّمَتْ بِثَلَاثَةِ دَرَاهِمَ وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ
আমরাহ্ বিনতে আবদুর রহমান (র) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা) মক্কাভিমুখে যাত্রা করলেন। তাঁর সাথে তাঁর দুইটি দাসীও ছিল, যাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আর আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ বাকরের একজন দাসও তাঁর সাথে ছিল। তিনি ঐ দাসীদের হাতে মক্কা হতে একখানা চাদর পাঠালেন, যাতে পুরুষের ছবি অঙ্কিত ছিল এবং উহাকে একখানা সবুজ কাপড়ে জড়িয়ে সেলাই করে দেয়া হয়েছিল। ঐ দাসটি ঐ সেলাই খুলে তা হতে চাদর বের করে নিল আর তদস্থলে একটা চামড়া রেখে উহাকে পুনরায় সেলাই করে দিল। দাসীদ্বয় মদীনায় এসে উহার মালিকের নিকট উহা অর্পণ করল। তারা উহা খুলে দেখল চাদরের পরিবর্তে একখানা চামড়া, পরে ঐ দাসীদের নিকট জিজ্ঞেস করা হলে তারা আয়িশা (রা)-এর নিকট লিখে দিল যে, উহা ঐ দাস নিয়ে গিয়েছে। ঐ দাসকে প্রশ্ন করা হল, সে স্বীকার করল। অতঃপর আয়িশা (রা)-এর আদেশে তার হাত কাটা হল। আয়িশা (রা) বলেন, দীনারের চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্বের পরিবর্তে হাত কর্তন করা হবে। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, আমাদের মতে যদি চোর তিন দিরহাম বা তদূর্ধ্ব মূল্যের মাল চুরি করে, তখন তার হাত কর্তন করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। যদিও দীনারের তুলনায় বেড়ে অথবা কমে যায়। কেননা রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢালের বিনিময়ে হাত কর্তনের আদেশ দিয়েছেন, যার মূল্য তিন দিরহাম ছিল। উসমান (রা) একটি সাতরানজের বিনিময়ে হাত কেটেছিলেন যার মূল্য তিন দিরহাম ছিল। আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এই মতই উত্তম বলে গণ্য।
[১] কেউ কেউ বলেছেন, ঐ চাদরে মানুষের ছবি ছিল না, বরং উটের হাওদা ইত্যাদির ছবি ছিল। যরকানী বলেনঃ কোন জন্তুর আধা ছবি থাকলে কোন দোষ নেই, পূর্ণ ছবি থাকলে তা নিষেধ। যরকানী আরও বলেন, অত্র হাদীসের দ্বারা কেউ যেন ছবি রাখা জায়েয মনে না করে। কেননা প্রথমত জানদারের ছবি সন্দেহজনক, তদুপরি অর্ধ ছবি থাকলে উহাতে কোন দোষ নেই, পূর্ণ ছবিই নিষেধের আওতায় পড়ে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি চুরির ঘটনা এসেছে। তিনি মক্কা থেকে একটি চাদর পাঠান, যা সবুজ কাপড়ে জড়িয়ে সেলাই করা ছিল। পথে একজন দাস সেলাই খুলে চাদর বের করে নেয় এবং তার জায়গায় চামড়া রেখে আবার সেলাই করে দেয়। মদীনায় পৌঁছে মালিকেরা খুলে দেখে চাদরের বদলে চামড়া পাওয়া যায়। পরে দাসকে জিজ্ঞেস করলে সে স্বীকার করে। আয়িশা (রা)-এর আদেশে তার হাত কাটা হয়। এরপর তিনি বলেন, এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তার বেশি মূল্যের চুরিতে হাত কর্তন করা হবে। মালিক (র) তিন দিরহামের বিষয়ও উল্লেখ করেন। এই বর্ণনায় চুরি, প্রমাণ, স্বীকারোক্তি এবং মূল্যসীমা একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুরির ঘটনায় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় এসেছে।
- স্বীকারোক্তি বিচারিক সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
- এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তিন দিরহামের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
- গোপনে মাল বদলে নেওয়াও চুরির গুরুতর রূপ হতে পারে।
