৪১/১. অধ্যায়ঃ
প্রস্তরাঘাত করা
ছয় মাসে সন্তান জন্ম: আলী (রা)-এর আয়াতভিত্তিক যুক্তি
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫১৬
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ أُتِيَ بِامْرَأَةٍ قَدْ وَلَدَتْ فِي سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُرْجَمَ فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهَا إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ { وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا } وَقَالَ { وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ } فَالْحَمْلُ يَكُونُ سِتَّةَ أَشْهُرٍ فَلَا رَجْمَ عَلَيْهَا فَبَعَثَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فِي أَثَرِهَا فَوَجَدَهَا قَدْ رُجِمَتْحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ الَّذِي يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ عَلَيْهِ الرَّجْمُ أَحْصَنَ أَوْ لَمْ يُحْصِنْ
মালিক (র)- হতে বর্ণিতঃ
উসমান (রা)-এর নিকট একটি স্ত্রীলোককে আনা হয়েছিল, ছয় মাসেই যার সন্তান প্রসব হয়েছে। উসমান (রা) তাকে প্রস্তরাঘাত করার আদেশ দিয়ে দিলেন। আলী (রা) তাঁকে বললেন, তার উপর প্রস্তরাঘাত করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে বলেছেনঃ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا“সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থান এবং মাতৃস্তন ছাড়াবার সময় ৩০ মাস।”অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “মা তার সন্তানকে পূর্ণ দুই বৎসর দুধ দান করবে। (অতএব ৩০ মাস হতে ২৪ মাস বাদ দিলে ৬ মাস থাকে) তা হলে সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থানকাল ৬ মাস হল। অতএব তাকে প্রস্তরাঘাত করা যেতে পারে না।এটা শুনে উসমান (রা) তার নিকট লোক পাঠিয়ে দিলেন। তারা যেয়ে দেখল, ততক্ষণে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) ইব্নু শিহাবকে জিজ্ঞেস করলেন, পুরুষে পুরুষে সমকামিতা করলে তার শাস্তি কি ? তিনি বললেন, তাকেও প্রস্তরাঘাত করতে হবে, সে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫১৬-এর সারসংক্ষেপ
কোর টপিক: প্রমাণ। এই বর্ণনায় উসমান (রা)-এর কাছে এমন এক নারীকে আনা হয়, যিনি ছয় মাসে সন্তান প্রসব করেছেন। উসমান (রা) তাঁকে রজম করার আদেশ দেন। আলী (রা) বলেন, তার উপর রজম করা যাবে না। তিনি কুরআনের দুই আয়াত দিয়ে হিসাব দেখান: গর্ভ ও দুধ ছাড়ানোর সময় মোট ত্রিশ মাস, আর পূর্ণ দুধপানের সময় দুই বছর। ফলে ত্রিশ মাস থেকে চব্বিশ মাস বাদ দিলে ছয় মাস থাকে। তাই ছয় মাসে সন্তান জন্ম ব্যভিচারের প্রমাণ নয়। উসমান (রা) লোক পাঠালেও দেখা যায়, ততক্ষণে শাস্তি কার্যকর হয়ে গেছে। একই বর্ণনায় ইবনু শিহাবের কাছে পুরুষে পুরুষে কওমে লূতের কাজের শাস্তি সম্পর্কেও প্রশ্ন আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছয় মাসে সন্তান জন্মকে একা ব্যভিচারের প্রমাণ ধরা হয়নি।
- আলী (রা) কুরআনের আয়াত দিয়ে যুক্তি দিয়েছেন।
- ফয়সালার আগে প্রমাণ ভালোভাবে দেখা জরুরি।
- ভুল ফয়সালা থামাতে জ্ঞানভিত্তিক কথা বলা দরকার।
