৩৯/১২. অধ্যায়ঃ
মুকাতাব এবং উম্মে-ওয়ালাদকে আযাদী প্রদানের বিবিধ প্রসঙ্গ
মুকাতাবের আযাদী প্রদানের বিধান: উম্মে-ওয়ালাদ, দান ও কিতাবাতের হক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৯৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৯৭
قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُكَاتِبُ عَبْدَهُ ثُمَّ يَمُوتُ الْمُكَاتَبُ وَيَتْرُكُ أُمَّ وَلَدِهِ وَقَدْ بَقِيَتْ عَلَيْهِ مِنْ كِتَابَتِهِ بَقِيَّةٌ وَيَتْرُكُ وَفَاءً بِمَا عَلَيْهِ إِنَّ أُمَّ وَلَدِهِ أَمَةٌ مَمْلُوكَةٌ حِينَ لَمْ يُعْتَقْ الْمُكَاتَبُ حَتَّى مَاتَ وَلَمْ يَتْرُكْ وَلَدًا فَيُعْتَقُونَ بِأَدَاءِ مَا بَقِيَ فَتُعْتَقُ أُمُّ وَلَدِ أَبِيهِمْ بِعِتْقِهِمْقَالَ مَالِك فِي الْمُكَاتَبِ يُعْتِقُ عَبْدًا لَهُ أَوْ يَتَصَدَّقُ بِبَعْضِ مَالِهِ وَلَمْ يَعْلَمْ بِذَلِكَ سَيِّدُهُ حَتَّى عَتَقَ الْمُكَاتَبُ قَالَ مَالِك يَنْفُذُ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلَيْسَ لِلْمُكَاتَبِ أَنْ يَرْجِعَ فِيهِ فَإِنْ عَلِمَ سَيِّدُ الْمُكَاتَبِ قَبْلَ أَنْ يَعْتِقَ الْمُكَاتَبُ فَرَدَّ ذَلِكَ وَلَمْ يُجِزْهُ فَإِنَّهُ إِنْ عَتَقَ الْمُكَاتَبُ وَذَلِكَ فِي يَدِهِ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ أَنْ يُعْتِقَ ذَلِكَ الْعَبْدَ وَلَا أَنْ يُخْرِجَ تِلْكَ الصَّدَقَةَ إِلَّا أَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ طَائِعًا مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নিজের ক্রীতদাসের সাথে মুকাতাব করেছে, অতঃপর মুকাতাবের মৃত্যু হয়েছে এবং রেখে গিয়েছে তার উম্মে-ওয়ালাদ। আর তার কিতাবাতের কিছু অবশিষ্ট (অনাদায়ী) রয়েছে এবং সে (বদলে কিতাবাতের বাকী কিস্তি) যা তার জিম্মায় রয়েছে উহা পরিশোধ করা যায় এমন মালও রেখে গিয়েছে।মালিক (র) বলেন আযাদী লাভের পূর্বে যখন মুকাতাবের মৃত্যু হয়েছে এবং সন্তানও রেখে যায়নি যারা “বদলে কিতাবাত”-এর বকেয়া পরিশোধ করে নিজেরাও আযাদী লাভ করত এবং (সাথে সাথে) তাদের পিতার “উম্মে-ওয়ালাদ”ও এর ফলে আযাদী লাভ করত (কাজেই) মুকাতাবের “উম্মে-ওয়ালাদ” ক্রীতদাসী থেকে যাবে।মালিক (র) বলেন মুকাতাব তার গোলামকে আযাদ করে দিয়েছে অথবা তার মালের কিছু অংশ সাদাকাহ্ করে দিয়েছে এবং তার কর্তাকে সে উহা জানায়নি (এই অবস্থাতে) মুকাতাব আযাদী লাভ করেছে।মালিক (র) বলেন ইহা তার পক্ষে কার্যকর করা হবে, মুকাতাবের জন্য উহা হতে রুজূ করারও ইখতিয়ার থাকবে না, পক্ষান্তরে যদি মুকাতাবের আযাদী লাভের পূর্বে কর্তা উহা জানতে পারে এবং (জানার পর) সে উহা রদ করে দেয় উহাকে চালু না করে তবে মুকাতাব আযাদ হওয়ার পর, মাল ও ক্রীতদাস তার আয়ত্বে থাকলে তার জন্য গোলাম আযাদ করা অথবা বের করা আবশ্যক নয়। তবে তা স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুকাতাব বা কিতাবাত চুক্তিতে থাকা দাসের কয়েকটি সূক্ষ্ম বিধান এসেছে। প্রথম অংশে বলা হয়েছে, কোনো মুকাতাব আযাদ হওয়ার আগে মারা গেলে, তার কিতাবাতের কিছু বাকি থাকলে এবং সে এমন মাল রেখে গেলেও, যা দিয়ে বাকি কিস্তি পরিশোধ করা যায়, তার উম্মে-ওয়ালাদ ক্রীতদাসী হিসেবেই থাকবে। কারণ এখানে সে নিজে আযাদ হওয়ার আগেই মারা গেছে এবং এমন সন্তানও রেখে যায়নি, যারা বাকি বদলে কিতাবাত পরিশোধ করে আযাদ হতো এবং তাদের সঙ্গে তাদের পিতার উম্মে-ওয়ালাদও আযাদ হতো। দ্বিতীয় অংশে মুকাতাবের দান ও গোলাম আযাদের বিষয় এসেছে। মুকাতাব যদি নিজের কোনো গোলাম আযাদ করে বা মালের কিছু অংশ সাদাকাহ করে, আর কর্তা তা জানার আগেই সে নিজে আযাদ হয়ে যায়, তবে কাজটি কার্যকর হবে এবং সে পরে তা ফিরিয়ে নিতে পারবে না। কিন্তু কর্তা যদি তার আযাদীর আগে বিষয়টি জেনে রদ করে দেয়, তাহলে আযাদ হওয়ার পর তার উপর সেটি করা বাধ্যতামূলক থাকবে না; তবে সে চাইলে নিজের ইচ্ছায় করতে পারবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুকাতাবের আযাদী পূর্ণ না হলে তার কিছু অধিকার আগের অবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
- কিতাবাতের বাকি পাওনা পরিশোধের বিষয়টি মুকাতাব ও তার পরিবারের অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- মুকাতাবের দান বা গোলাম আযাদের কাজ কর্তার জানার সময় ও অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
- যে কাজ কর্তা আগে রদ করে দিয়েছে, তা পরে বাধ্যতামূলক না হলেও স্বেচ্ছায় করা যেতে পারে।
