৩৯/৬. অধ্যায়ঃ

মুকাতাবের প্রচেষ্টা

মুকাতাবের সন্তানদের কিতাবাতের দায় ও মুক্তির বিধান

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৯১

حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ سُئِلَا عَنْ رَجُلٍ كَاتَبَ عَلَى نَفْسِهِ وَعَلَى بَنِيهِ ثُمَّ مَاتَ هَلْ يَسْعَى بَنُو الْمُكَاتَبِ فِي كِتَابَةِ أَبِيهِمْ أَمْ هُمْ عَبِيدٌ فَقَالَا بَلْ يَسْعَوْنَ فِي كِتَابَةِ أَبِيهِمْ وَلَا يُوضَعُ عَنْهُمْ لِمَوْتِ أَبِيهِمْ شَيْءٌ قَالَ مَالِك وَإِنْ كَانُوا صِغَارًا لَا يُطِيقُونَ السَّعْيَ لَمْ يُنْتَظَرْ بِهِمْ أَنْ يَكْبَرُوا وَكَانُوا رَقِيقًا لِسَيِّدِ أَبِيهِمْ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْمُكَاتَبُ تَرَكَ مَا يُؤَدَّى بِهِ عَنْهُمْ نُجُومُهُمْ إِلَى أَنْ يَتَكَلَّفُوا السَّعْيَ فَإِنْ كَانَ فِيمَا تَرَكَ مَا يُؤَدَّى عَنْهُمْ أُدِّيَ ذَلِكَ عَنْهُمْ وَتُرِكُوا عَلَى حَالِهِمْ حَتَّى يَبْلُغُوا السَّعْيَ فَإِنْ أَدَّوْا عَتَقُوا وَإِنْ عَجَزُوا رَقُّوا.قَالَ مَالِك فِي الْمُكَاتَبِ يَمُوتُ وَيَتْرُكُ مَالًا لَيْسَ فِيهِ وَفَاءُ الْكِتَابَةِ وَيَتْرُكُ وَلَدًا مَعَهُ فِي كِتَابَتِهِ وَأُمَّ وَلَدٍ فَأَرَادَتْ أُمُّ وَلَدِهِ أَنْ تَسْعَى عَلَيْهِمْ إِنَّهُ يُدْفَعُ إِلَيْهَا الْمَالُ إِذَا كَانَتْ مَأْمُونَةً عَلَى ذَلِكَ قَوِيَّةً عَلَى السَّعْيِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ قَوِيَّةً عَلَى السَّعْيِ وَلَا مَأْمُونَةً عَلَى الْمَالِ لَمْ تُعْطَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ وَرَجَعَتْ هِيَ وَوَلَدُ الْمُكَاتَبِ رَقِيقًا لِسَيِّدِ الْمُكَاتَبِ.قَالَ مَالِك إِذَا كَاتَبَ الْقَوْمُ جَمِيعًا كِتَابَةً وَاحِدَةً وَلَا رَحِمَ بَيْنَهُمْ فَعَجَزَ بَعْضُهُمْ وَسَعَى بَعْضُهُمْ حَتَّى عَتَقُوا جَمِيعًا فَإِنَّ الَّذِينَ سَعَوْا يَرْجِعُونَ عَلَى الَّذِينَ عَجَزُوا بِحِصَّةِ مَا أَدَّوْا عَنْهُمْ لِأَنَّ بَعْضَهُمْ حُمَلَاءُ عَنْ بَعْضٍ.

মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উরওয়াহ ইব্নু যুবায়র ও সুলায়মান ইব্নু ইয়াসার তাঁদের উভয়কে প্রশ্ন করা হল এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে ব্যক্তি নিজের এবং তার ছেলেদের মুক্তির জন্য মুকাতাবাত করেছে। তারপর তার মৃত্যু হয়েছে এমতাবস্থায় মুকাতাবের ছেলেরা তাদের পিতার কিতাবাতে-এর অর্থ আদায় করার জন্য চেষ্টা করবে কি? না তারা ক্রীতদাস থেকে যাবে? তাঁরা (উত্তরে) বললেন, তারা (মুকাতাবের ছেলেরা) তাদের পিতার কিতাবাতের অর্থ পরিশোধের জন্য চেষ্টা করবে। তাদের উপর হতে পিতার মৃত্যু “বদলে কিতাবাত”-এর পরিমাণ বা মূল্য হতে কিছু কমান হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন (মৃত) মুকাতাবের সন্তানগণ যদি ছোট বয়সের থাকে যারা (“বদলে-কিতাবাত আদায় করার”) চেষ্টা করার সামর্থ্য রাখে না, তবে তাদের (বড় হওয়ার) জন্য অপেক্ষা করা হবে না। তারা তাদের পিতার কর্তার ক্রীতদাস থাকবে; কিন্তু মুকাতাব যদি এই পরিমাণ মাল রেখে যায় ছেলেরা চেষ্টা করার উপযোগী হওয়া পর্যন্ত সেই পরিমাণ মালের দ্বারা তাদের (কিতাবাতের) কিস্তি আদায় করা যেতে পারে। যদি তাদের পিতা যে মাল রেখে গিয়েছে তাতে তাদের কিস্তি আদায় করা যায়, তবে (তাদের ছোট থাকাকালে) তাদের কিস্তি আদায় করা হবে; এবং তাদেরকে চেষ্টার উপযোগী বয়সে উপনীত হওয়া পর্যন্ত এইভাবে থাকতে দেয়া হবে। যদি তারা “বদলে কিতাবাত” আদায় করে তবে সকলেই আযাদ হয়ে যাবে। আর তারা তা করতে অক্ষম হলে গোলাম থেকে যাবে।মালিক (র) বলেন যে মুকাতাবের মৃত্যু হয়েছে এবং সে রেখে গিয়েছে সন্তান যারা তার সাথে কিতাবাতে শামিল রয়েছে আর (রেখে গিয়েছে) “উম্মে-ওয়ালাদ” আর (সে রেখে গিয়েছে) মাল যা “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করার জন্য যথেষ্ট নয়।“উম্মে ওয়ালাদ” যদি তাদের আযাদীর নিমিত্তে চেষ্টা চালাতে ইচ্ছা করে, যদি সে চেষ্টা করার উপযুক্ত হয় এবং নির্ভরযোগ্যও হয়, তবে (মৃত মুকাতাবের) মাল তার নিকট সোপর্দ করা হবে। আর সে যদি চেষ্টা চালাবার উপযুক্ত না হয় এবং নির্ভরযোগ্যও নয় তবে মালের কিছুই উহার নিকট সোপর্দ করা হবে না। বরং উম্মু ওয়ালাদ এবং সেই মুকাতাবের সন্তানগণ মুকাতাবের কর্তার ক্রীতদাস থেকে যাবে।মালিক (র) বলেন ক্রীতদাসের একদল যদি একত্রে মুকাতাবাত করে এবং তাদের মধ্যে পরস্পর আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকে, অতঃপর কিছু সংখ্যক অপারগ হয়। আর কিছু লোক চেষ্টা চালায়। ফলে সকলেই আযাদ হয়ে যায়। তাহলে, যারা (আযাদীর জন্য) চেষ্টা করেছে তারা প্রত্যাবর্তন করবে, উহাদের দিকে যারা অক্ষম হয়েছিল সেই অংশ অনুযায়ী যেই অংশ উহাদের তরফ হতে পরিশোধ করা হয়েছে। কারণ উহারা একে অপরের জামিন।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৯১-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনাটির মূল বিষয় হলো মুকাতাব ও কিতাবাতের দায়। এখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজের ও তার সন্তানদের মুক্তির জন্য কিতাবাত করলে, তারপর সে মারা গেলে তার সন্তানরা পিতার কিতাবাতের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করবে। পিতার মৃত্যু হওয়ার কারণে চুক্তির টাকা থেকে কিছু কমানো হবে না। তবে সন্তানরা যদি ছোট হয় এবং চেষ্টা করার সামর্থ্য না রাখে, আর পিতা এমন সম্পদও রেখে না যায় যা দিয়ে তাদের কিস্তি চালানো যায়, তাহলে তারা পিতার কর্তার ক্রীতদাস থাকবে। কিন্তু পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়ে কিস্তি দেওয়া সম্ভব হলে, তারা বড় হয়ে চেষ্টা করার উপযোগী হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা চলবে। পরে তারা বদলে কিতাবাত আদায় করলে আযাদ হবে, আর অক্ষম হলে গোলাম থেকে যাবে। বর্ণনায় উম্মে ওয়ালাদের বিষয়ও এসেছে। সে যদি শক্তি ও আমানতদারির দিক থেকে উপযুক্ত হয়, তাহলে মুকাতাবের রেখে যাওয়া সম্পদ তার হাতে দেওয়া যাবে। আর উপযুক্ত না হলে দেওয়া হবে না। একইভাবে, কয়েকজন মিলে এক কিতাবাত করলে, যারা অন্যদের পক্ষ থেকে আদায় করেছে, তারা অক্ষমদের অংশ অনুযায়ী ফেরত চাইতে পারে। কারণ তারা একে অপরের জামিন হিসেবে ছিল।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিতাবাতের চুক্তি থাকলে দায়িত্ব স্পষ্টভাবে আদায় করতে হয়; কারও মৃত্যু হলেই তা কমে যায় না।
  • ছোট সন্তানদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য ও রেখে যাওয়া সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
  • উম্মে ওয়ালাদের হাতে সম্পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে শক্তি ও আমানতদারি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে এসেছে।
  • যৌথ কিতাবাতে কেউ অন্যদের পক্ষ থেকে পরিশোধ করলে, সে তাদের অংশ অনুযায়ী ফেরত চাইতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন