৩৮/১০. অধ্যায়ঃ
যে আযাদ করবে অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তারই জন্য হবে
ওয়ালা বিক্রি ও দান নিষেধ: অভিভাবকত্বের স্থির অধিকার
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৭৮
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَبْتَاعُ نَفْسَهُ مِنْ سَيِّدِهِ عَلَى أَنَّهُ يُوَالِي مَنْ شَاءَ إِنَّ ذَلِكَ لَا يَجُوزُ وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا أَذِنَ لِمَوْلَاهُ أَنْ يُوَالِيَ مَنْ شَاءَ مَا جَازَ ذَلِكَ لِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَنَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ فَإِذَا جَازَ لِسَيِّدِهِ أَنْ يَشْتَرِطَ ذَلِكَ لَهُ وَأَنْ يَأْذَنَ لَهُ أَنْ يُوَالِيَ مَنْ شَاءَ فَتِلْكَ الْهِبَةُ.
আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবকত্ব বিক্রি ও দান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ২৫৩৫, মুসলিম ১৫০৬)মালিক (র) বলেন যে ক্রীতদাস নিজকে ক্রয় করে নেয় আপন কর্তা হতে এই শর্তে যে, সে যাকে চায় তাকে অভিভাবকত্ব প্রদান করবে। এটা জায়েয হবে না। অভিভাবকত্ব তার জন্য হবে, যে আযাদ করবে। আর যদি কোন ব্যক্তি নিজের মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসকে যাকে ইচ্ছা তাকে অভিভাবকত্ব প্রদানের অনুমতি দিয়েদেয় তবে এটা বৈধ হবে না। কারণ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে এবং তিনি স্বত্বাধিকার বিক্রয় ও দান করতে নিষেধ করেছেন। যদি কর্তার পক্ষে ক্রীতদাসের জন্য এইরূপ শর্ত করা বৈধ হয় অথবা সে ক্রীতদাসকে অনুমতি দেয় যে, সে যাকে ইচ্ছা অভিভাবকত্ব প্রদান করবে, তবে ইহা দান করা হল।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবকত্ব বা ওয়ালা বিক্রি ও দান করতে নিষেধ করেছেন। ইমাম মালিক (র) ব্যাখ্যা করেন, কোনো ক্রীতদাস যদি নিজের কর্তা থেকে নিজেকে কিনে নেয় এই শর্তে যে, সে যাকে চায় তাকে ওয়ালা দেবে, তা জায়েয নয়। কারণ ওয়ালা তার জন্য, যে আযাদ করে। একইভাবে কোনো মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসকে যদি তার কর্তা অনুমতি দেয় যে, সে যাকে ইচ্ছা ওয়ালা দেবে, তাও বৈধ নয়। কারণ এটি ওয়ালা দান করার মতো হয়ে যায়। এই বর্ণনায় ওয়ালাকে সাধারণ সম্পদের মতো বিক্রি বা হস্তান্তরযোগ্য বলা হয়নি। আযাদী যার মাধ্যমে হয়েছে, অভিভাবকত্ব তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে—এটাই মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ালা বিক্রি করা নিষেধ।
- ওয়ালা দান করাও নিষেধ।
- আযাদকারীর অধিকার অন্যকে ইচ্ছামতো দেওয়া যায় না।
- শর্ত দিয়ে ওয়ালার মূল নিয়ম বদলানো বৈধ নয়।
