৩৮/১০. অধ্যায়ঃ
যে আযাদ করবে অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তারই জন্য হবে
আযাদকারীর অভিভাবকত্ব: বিক্রেতার শর্তে বাধা নেই
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৭৬
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً تُعْتِقُهَا فَقَالَ أَهْلُهَا نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلَاءَهَا لَنَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَا يَمْنَعَنَّكِ ذَلِكَ فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ.
আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রা) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) জনৈকা ক্রীতদাসীকে খরিদ করে আযাদ করার ইচ্ছা করলেন। ক্রীতদাসীর কর্তারা বলল, আমরা উহাকে আপনার কাছে এই শর্তে বিক্রয় করতে পারি যে, উহার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকবে। আয়িশা (রা) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইহা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এই শর্তারোপ যেন তোমাকে (উহাকে ক্রয় কয়ে আযাদ করতে) বারণ না করে। অভিভাবকত্ব উহারই হবে, যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৯, মুসলিম ১৫০৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়িশা (রা) এক ক্রীতদাসীকে কিনে আযাদ করতে চান। ক্রীতদাসীর কর্তারা বলেন, তারা বিক্রি করবে, তবে শর্ত হলো অভিভাবকত্ব তাদের থাকবে। আয়িশা (রা) বিষয়টি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই শর্ত যেন তোমাকে কিনে আযাদ করা থেকে বিরত না করে; কারণ অভিভাবকত্ব তারই হবে, যে আযাদ করবে। এখানে বারীরা (রা)-এর ঘটনার একই মূলনীতি সংক্ষেপে এসেছে। লেনদেনে কেউ শর্ত বসাতে পারে, কিন্তু সেই শর্ত যদি শরয়ি নীতির সঙ্গে না মেলে, তা কার্যকর হবে না। ক্রীতদাসী আযাদ করা, অভিভাবকত্বের অধিকার এবং অবৈধ শর্তের সীমা—এই তিনটি বিষয় সহজভাবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযাদীর কাজ বিক্রেতার অবৈধ শর্তের কারণে থেমে যাবে না।
- অভিভাবকত্ব আযাদকারীর অধিকার।
- শর্ত থাকলেই তা শরয়িভাবে কার্যকর হয় না।
- আয়িশা (রা) বিষয়টি নবীজির কাছে জিজ্ঞেস করে পরিষ্কার করেন।
