৩৮/৬. অধ্যায়ঃ
পূর্বে যার উপর দাসমুক্তি ওয়াজিব হয়েছে তার জন্য কি ধরনের দাস মুক্ত করা জায়েয তার বর্ণনা
ঈমানদার ক্রীতদাসী আযাদ: ভুল আচরণের পর সংশোধনের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৬৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৬৬
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِلَالِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ جَارِيَةً لِي كَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا لِي فَجِئْتُهَا وَقَدْ فُقِدَتْ شَاةٌ مِنْ الْغَنَمِ فَسَأَلْتُهَا عَنْهَا فَقَالَتْ أَكَلَهَا الذِّئْبُ فَأَسِفْتُ عَلَيْهَا وَكُنْتُ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلَطَمْتُ وَجْهَهَا وَعَلَيَّ رَقَبَةٌ أَفَأُعْتِقُهَا فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْنَ اللهُ فَقَالَتْ فِي السَّمَاءِ فَقَالَ مَنْ أَنَا فَقَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْتِقْهَا.
আতা ইব্নু ইয়াসার (র) উমার ইব্নু হাকাম [১] (রা) হতে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ্! আমার এক ক্রীতদাসী আমার ছাগপাল চরাইতেছিল। একদিন আমি তার নিকট গেলাম এবং জানতে পারলাম সে একটি বকরী হারিয়ে ফেলেছে। আমি তাকে বকরীর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, উহাকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে। আমি তার জন্য দুঃখিত হলাম, আর আমি আদম সন্তানের একজন (আমার রাগ হল)। তাই আমি ক্রীতদাসীর মুখের উপর চড় মারলাম। আমার উপর (পূর্বে) একটি দাস বা দাসী আযাদ করা জরুরী ছিল, এখন আমি উহাকে (ক্রীতদাসীকে) আযাদ করব কি? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহাকে (ক্রীতদাসীকে) জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্ কোথায়? সে বলল, ঊর্ধ্বলোকে। তিনি (রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তারপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন একে আযাদ করে দাও। (সহীহ, মুসলিম ৫৩৭)
[১] মালিক (র) বলেছেন, এটা প্রকৃতপক্ষে হবে মুয়াবিয়া ইবনু হাকাম।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি নিজের ক্রীতদাসীর ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসেন। ক্রীতদাসী ছাগল চরাত, একটি বকরী হারিয়ে গেলে সে বলে বাঘে খেয়েছে। লোকটি রাগে তার মুখে চড় মারে। এরপর সে জানায়, তার ওপর একটি দাস বা দাসী আযাদ করা জরুরি ছিল। সে জানতে চায়, এই ক্রীতদাসীকে আযাদ করলে হবে কি না। নবীজি ক্রীতদাসীকে প্রশ্ন করেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলে, ঊর্ধ্বলোকে। তিনি বলেন, আমি কে? সে বলে, আপনি আল্লাহর রসূল। তখন তিনি বলেন, তাকে আযাদ করে দাও। এই হাদিসে রাগ নিয়ন্ত্রণ, ভুলের পর সংশোধন এবং ঈমানদার দাসী আযাদের বিষয় স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের মুহূর্তে অন্যায় আচরণ হয়ে গেলে সংশোধনের পথ খোঁজা উচিত।
- ক্রীতদাসীর সঙ্গে আচরণেও জবাবদিহির শিক্ষা আছে।
- ঈমান যাচাইয়ের পর তাকে আযাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ওয়াজিব আযাদীতে যাকে আযাদ করা হবে, তার বিষয় যাচাই করা দরকার।
