৩৮/৫. অধ্যায়ঃ
উম্মাহাতুল-আওলাদ [১] -এর আযাদী এবং এ সম্পর্কিত বিবিধ হুকুম
[১] যেই সকল ক্রীতদাসী মনিবের সন্তান জন্ম দিয়েছে ঐ সকল ক্রীতদাসীকে “উম্মুহাতুল-আওলাদ” বলা হয়। তাদের বিক্রি করা অথবা দান করা নিষিদ্ধ।
ক্রীতদাসীর ওপর জুলুম ও আযাদ করার ন্যায্য বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৬৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৬৫
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَتْهُ وَلِيدَةٌ قَدْ ضَرَبَهَا سَيِّدُهَا بِنَارٍ أَوْ أَصَابَهَا بِهَا فَأَعْتَقَهَا قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَا تَجُوزُ عَتَاقَةُ رَجُلٍ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ يُحِيطُ بِمَالِهِ وَأَنَّهُ لَا تَجُوزُ عَتَاقَةُ الْغُلَامِ حَتَّى يَحْتَلِمَ أَوْ يَبْلُغَ مَبْلَغَ الْمُحْتَلِمِ وَأَنَّهُ لَا تَجُوزُ عَتَاقَةُ الْمُوَلَّى عَلَيْهِ فِي مَالِهِ وَإِنْ بَلَغَ الْحُلُمَ حَتَّى يَلِيَ مَالَهُ.
মালিক (র)- হতে বর্ণিতঃ
উমার ইব্নু খাত্তাব (রা)-এর নিকট জনৈকা ক্রীতদাসী এল, যাকে তার মনিব আগুন দ্বারা জখম করেছে অথবা তার শরীরে আগুন লাগিয়েছে। উমার (রা) উহাকে আযাদ করে দিলেন (অর্থাৎ আযাদ করে দেয়ার জন্য কর্তাকে নির্দেশ দিলেন)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন আমাদের নিকট সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত এই যে, যে ব্যক্তির উপর ঋণ আছে এবং ঋণ তার সমস্ত মাল ঘিরে রেখেছে সে ব্যক্তির পক্ষে (ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীকে) আযাদ করা বৈধ নয়। বালক যতক্ষণ বালেগ না হয় অথবা বালেগ পুরুষের সমপর্যায়ে না পৌঁছে, ততক্ষণ তার পক্ষে গোলাম আযাদ করা বৈধ হবে না, যে ব্যক্তির মালের উপর মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত করা হয়েছে (এবং তাকে কার্য পরিচালনা হতে বিরত রাখা হয়েছে) সে বালিগ (সাবালক) হলেও গোলাম আযাদ করতে পারবে না, যাবত সে নিজ সম্পদের পরিচালক না হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এসেছে, এক ক্রীতদাসী উমার ইব্নু খাত্তাব (রা)-এর কাছে আসে। তার মনিব তাকে আগুন দিয়ে জখম করেছিল বা তার শরীরে আগুন লাগিয়েছিল। উমার (রা) তাকে আযাদ করে দেন, অর্থাৎ কর্তাকে আযাদ করতে নির্দেশ দেন। এরপর ইমাম মালিক (র) কয়েকটি ফিকহি কথা উল্লেখ করেন। যার ঋণ তার সব মাল ঘিরে রেখেছে, তার দাস আযাদ করা বৈধ নয়। বালক বালেগ না হওয়া পর্যন্ত আযাদ করতে পারবে না। আবার যার সম্পদের ওপর মুতাওয়াল্লী আছে, সে নিজ সম্পদের পরিচালক না হওয়া পর্যন্ত আযাদ করতে পারবে না। তাই এই হাদিসে ক্রীতদাসীর ওপর জুলুমের প্রতিবাদ, আযাদীর অধিকার এবং আর্থিক সক্ষমতার সীমা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাসীর ওপর আগুন দিয়ে জুলুম করা গুরুতর অন্যায়।
- জুলুমের ঘটনায় আযাদী একটি সংশোধনমূলক ফয়সালা হতে পারে।
- ঋণ সব সম্পদ ঘিরে রাখলে দাস আযাদ করা বৈধ নয়।
- অপ্রাপ্তবয়স্ক বা সম্পদ পরিচালনায় অক্ষম ব্যক্তি আযাদীর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
