৩৮/২. অধ্যায়ঃ
আযাদীপ্রদানে শর্তারোপ
পূর্ণ আযাদীর অর্থ কী: দাসত্বের শর্ত আরোপ নয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৬০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৬০
قَالَ مَالِك مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا لَهُ فَبَتَّ عِتْقَهُ حَتَّى تَجُوزَ شَهَادَتُهُ وَتَتِمَّ حُرِّيَّتُهُ وَيَثْبُتَ مِيرَاثُهُ فَلَيْسَ لِسَيِّدِهِ أَنْ يَشْتَرِطَ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا يَشْتَرِطُ عَلَى عَبْدِهِ مِنْ مَالٍ أَوْ خِدْمَةٍ وَلَا يَحْمِلَ عَلَيْهِ شَيْئًا مِنْ الرِّقِّ لِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ.قَالَ مَالِك فَهُوَ إِذَا كَانَ لَهُ الْعَبْدُ خَالِصًا أَحَقُّ بِاسْتِكْمَالِ عَتَاقَتِهِ وَلَا يَخْلِطُهَا بِشَيْءٍ مِنْ الرِّقِّ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি তার দাসকে আযাদ করেছে এবং পরিষ্কারভাবে আযাদ করেছে। যেমন সে ক্রীতদাসের সাক্ষ্য বৈধ হয়, তার স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার আযাদী পূর্ণতা লাভ করে, তবে গোলামের উপর যেরূপ শর্তারোপ করা হয় তার কর্তা তার উপর অনুরূপ কোন শর্তারোপ করতে পারবে না এবং উহার উপর গোলামির কোন কিছু চাপাতেও পারবে না। কারণ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি গোলাম হতে তার অংশ আযাদ করেছে তার উপর সেই গোলামের (অবশিষ্ট অংশের) মূল্য ধার্য করা হবে। তারপর শরীকদেরকে তাদের অংশ প্রদান করা হবে, এবং তার পক্ষ হতে গোলাম পূর্ণরূপে আযাদ হয়ে যাবে।মালিক (র) বলেন যদি গোলামে অন্য কারো অংশ না থাকে, তবে আযাদী পূর্ণ করার জন্য তিনি অধিক হকদার হবে এবং সেই আযাদীতে কোন প্রকার দাসত্ব মিশ্রিত থাকবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (র) বলেন, কেউ যদি নিজের দাসকে পরিষ্কারভাবে আযাদ করে, এমনভাবে যে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হয়, তার স্বাধীনতা পূর্ণ হয় এবং তার স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে আগের মালিক তার ওপর দাসের মতো কোনো শর্ত চাপাতে পারবে না। টাকা, সেবা বা দাসত্বের কোনো অংশ তার ওপর রাখা যাবে না। তিনি এই কথার ভিত্তি হিসেবে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে যৌথ মালিকানার গোলামের অংশ আযাদ করলে ন্যায্য মূল্য দিয়ে শরীকদের অংশ পরিশোধ করে গোলাম পূর্ণ আযাদ হওয়ার কথা এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, আযাদী অর্ধেক মনোভাবের বিষয় নয়। যখন মুক্তি পূর্ণ হয়, তখন তাকে আবার দাসত্বের শর্তে বেঁধে রাখা যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিষ্কারভাবে আযাদ করলে মুক্তি পূর্ণভাবে কার্যকর হয়।
- মুক্ত ব্যক্তির ওপর দাসত্বের শর্ত চাপানো যাবে না।
- আযাদীর পর সাক্ষ্য, স্বত্ব ও স্বাধীনতার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুক্তির কাজে অস্পষ্টতা ও শর্তের জটিলতা এড়ানো দরকার।
