৩৬/৩৯. অধ্যায়ঃ
হারানো জন্তুর ফয়সালা
হারানো উটের ব্যবস্থাপনা: ঘোষণা, বিক্রি ও মালিকের হক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৪৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৪৬
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُوْلُ: كَانَتْ ضَوَالُّ الْإِبِلِ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِبِلًا مُؤَبَّلَةً تَنَاتَجُ لَا يَمَسُّهَا أَحَدٌ حَتَّى إِذَا كَانَ زَمَانُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَمَرَ بِتَعْرِيفِهَا ثُمَّ تُبَاعُ فَإِذَا جَاءَ صَاحِبُهَا أُعْطِيَ ثَمَنَهَا.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু যুহরী (র)-কে বলতে শুনেছেন উমার (রা)-এর যুগে যে হারানো উট পাওয়া যেত উহাকে ঐভাবেই ছেড়ে দেয়া হত। তার বাচ্চা জন্ম হলেও কেউই স্পর্শ করত না। অতঃপর উসমান (রা)-এর যুগ এল। তিনি ঐরূপ উটকে প্রচার করার পর বিক্রয় করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর যখন মালিক আসবে তখন উপহার মূল্য মালিককে দিয়ে দেয়া হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হারানো উট নিয়ে দুই যুগের ব্যবস্থার কথা এসেছে। উমার (রা)-এর সময়ে হারানো উটকে তার অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হতো। এমনকি বাচ্চা জন্মালেও কেউ স্পর্শ করত না। এতে বোঝা যায়, উট নিজের খাবার-পানি নিয়ে টিকে থাকতে পারে এবং মালিক পরে পেয়ে যেতে পারে। পরে উসমান (রা)-এর সময়ে এমন উটের ঘোষণা করার পর বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মালিক এলে বিক্রির মূল্য তাকে দেওয়া হতো। এখানে মূল শিক্ষা হলো, হারানো সম্পদের ক্ষেত্রে মালিকের হক রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য। পদ্ধতি অবস্থার কারণে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উদ্দেশ্য একই—অন্যের সম্পদ নষ্ট না করা এবং মালিককে তার পাওনা পৌঁছে দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হারানো উটের ক্ষেত্রে মালিকের হক রক্ষা মূল বিষয়।
- উটকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও এক সময় অনুসৃত হয়েছে।
- ঘোষণা ও বিক্রির পর মূল্য মালিককে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্পদ রক্ষার পদ্ধতি বদলাতে পারে।
