৩৬/৩৯. অধ্যায়ঃ
হারানো জন্তুর ফয়সালা
হারানো প্রাণী নেওয়ার আগে সতর্কতা: আমানতের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৪৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৪৫
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ مَنْ أَخَذَ ضَالَّةً فَهُوَ ضَالٌّ.
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র) হতে বর্ণিতঃ
উমার (রা) কা‘বা শরীফের দেয়ালে পৃষ্ঠদেশ লাগিয়ে বসেছিলেন। এই অবস্থায় বললেন, যে ব্যক্তি হারানো বস্তু নিয়ে নেয় সে পথভ্রষ্ট। (সহীহ মারফু, ইমাম মুসলিম যায়েদ বিন খালিদ (রা) থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেন ১৭২৫)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার (রা) কা‘বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে বসে বলেন, যে ব্যক্তি হারানো বস্তু নিয়ে নেয়, সে পথভ্রষ্ট। কথাটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। হারানো সম্পদ বা হারানো প্রাণী পেলে মানুষ অনেক সময় সহজ লাভ মনে করতে পারে। কিন্তু ইসলামে অন্যের মাল বা প্রাণীর ওপর নিজের ইচ্ছামতো হাত দেওয়া হালকা বিষয় নয়। বিশেষ করে এমন প্রাণী, যা নিজে চলতে, খেতে বা মালিকের কাছে ফিরে যেতে পারে, তাকে ধরে নেওয়া ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই বর্ণনা মানুষকে শেখায়, হারানো জিনিস পেলে আগে নিজের মনকে প্রশ্ন করতে হবে—আমি কি সত্যিই মালিকের উপকার করছি, নাকি নিজের জন্য নিচ্ছি? তাই লুকাতা বা হারানো সম্পদের ব্যাপারে আমানতদার থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হারানো বস্তু নেওয়ার আগে নিজের উদ্দেশ্য যাচাই করা দরকার।
- অন্যের সম্পদকে সহজ লাভ মনে করা বিপজ্জনক মনোভাব।
- হারানো প্রাণীর ক্ষেত্রেও মালিকের অধিকার সম্মান করতে হবে।
- আমানতদারি মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
