৩৬/২৪. অধ্যায়ঃ
পানির ফয়সালা
সেচের পানি বণ্টনের হাদিস: খাল সংলগ্ন জমি ও নিচের জমির অধিকার
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪২৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪২৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي سَيْلِ مَهْزُورٍ وَمُذَيْنِبٍ يُمْسَكُ حَتَّى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُرْسِلُ الْأَعْلَى عَلَى الْأَسْفَلِ.
আবদুল্লাহ্ ইবনু আবী বাকর (রা) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মাহযুর ও মুযায়ানব নামক দুইটি খাল সম্বন্ধে বলেছেন যে, যার ক্ষেত খাল সংলগ্ন সে যেন টাখনু (পায়ের গোড়ালি) পর্যন্ত পানি রেখে নিম্ন এলাকার ক্ষেতসমূহের জন্য পানি ছেড়ে দেয়। (সহীহ, আবূ দাঊদ ৩৬৩৯, ইবনু মাজাহ ২৪৮১, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন, [সহীহ ও যয়ীফ মুনানে ইবনু মাজাহ] তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত সনদটিতে তথা বিচ্ছন্নতা রয়েছে।)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাহযুর ও মুযায়ানব নামের দুই খালের পানি ব্যবহারের একটি নিয়ম বলা হয়েছে। যার ক্ষেত খালের কাছে, সে আগে পানি পাবে; কিন্তু সে নিজের জমিতে টাখনু পর্যন্ত পানি রেখে নিচের জমির জন্য পানি ছেড়ে দেবে। এখানে সেচের পানি বণ্টন নিয়ে ভারসাম্য শেখানো হয়েছে। কাছে থাকার কারণে কেউ পানি পুরোপুরি আটকে রাখতে পারে না। আবার উপরের জমির প্রয়োজনও উপেক্ষা করা হয়নি। তাই এই হাদিসে পানির অধিকার, কৃষি সেচ এবং প্রতিবেশী জমির হক—সবকিছুর একটি সহজ নীতি দেখা যায়। কৃষি সমাজে পানি বড় সম্পদ। তাই পানি ব্যবহারে নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি অন্যের প্রয়োজনও মনে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খালের কাছে থাকা জমির মালিক আগে পানি নিতে পারে।
- নিজের প্রয়োজন শেষে নিচের জমির জন্য পানি ছাড়তে হবে।
- সেচের পানি ব্যবহারে ন্যায্যতা জরুরি।
- নিজের সুবিধার কারণে অন্যের ফসলের ক্ষতি করা উচিত নয়।
