৩৬/১৯. অধ্যায়ঃ
কেউ যদি নিজ স্ত্রীর সাথে অপর পুরুষকে দেখে তবে তার ফয়সালা
চার সাক্ষী ছাড়া হত্যা নয়: বিচারিক প্রমাণের কঠোরতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪১৩
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ خَيْبَرِيٍّ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ أَوْ قَتَلَهُمَا مَعًا فَأَشْكَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْقَضَاءُ فِيهِ فَكَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ يَسْأَلُ لَهُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عَنْ ذَلِكَ فَسَأَلَ أَبُو مُوسَى عَنْ ذَلِكَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ إِنَّ هَذَا الشَّيْءَ مَا هُوَ بِأَرْضِي عَزَمْتُ عَلَيْكَ لَتُخْبِرَنِّي فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى كَتَبَ إِلَيَّ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ عَلِيٌّ أَنَا أَبُو حَسَنٍ إِنْ لَمْ يَأْتِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَلْيُعْطَ بِرُمَّتِهِ.
সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব হতে বর্ণিতঃ
একজন সিরিয়াবাসী তার স্ত্রীর সাথে অপর একজনকে (লিপ্ত) দেখতে পেয়ে তাকে অথবা দুইজনকেই মেরে ফেলল। মু‘আবিয়া (রা) আবূ মূসা আশ‘আরী (রা)-এর নিকট লিখে পাঠালেন যে, আলী (রা)-এর নিকট জিজ্ঞেস করে আমাকে জানাও তার কি সমাধান? অতঃপর আবূ মূসা (রা) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা আমার দেশের বলে মনে হয় না। সত্য করে বল কোন দেশের ঘটনা, (আমার মনে হয় তুমি আমাকে পরীক্ষা করিতেছ)। আবূ মূসা (রা) বললেন, আমার নিকট আবূ সুফিয়ানের পুত্র মুআবিয়া চিঠি লিখেছেন এ বিষয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করার জন্য। আলী (রা) বললেন আমি হলাম আবুল হাসান (হাসানের পিতা) যদি চার জন সাক্ষী না আনতে পারে তবে যেন তাকে (হত্যাকারীকে) উত্তমরূপে বন্দী করা হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় একজন সিরিয়াবাসী তার স্ত্রীর সাথে একজন পুরুষকে দেখে তাকে অথবা দুজনকেই হত্যা করে। বিষয়টি জটিল হলে মু‘আবিয়া (রা) আলী (রা)-এর মত জানতে চান। আলী (রা) বলেন, যদি সে চারজন সাক্ষী না আনতে পারে, তবে তাকে ভালোভাবে বন্দী করা হবে। এই ঘটনা ১৪১২ নম্বর হাদিসের শিক্ষার সাথে খুব কাছাকাছি। অভিযোগ যত গুরুতর, প্রমাণও তত পরিষ্কার হওয়া দরকার। ব্যক্তিগত দেখা বা দাবি বিচারিক নিয়মের বিকল্প নয়। এখানে ‘চার সাক্ষী’ এবং ‘হত্যাকারীর দায়’—দুটি বিষয় স্পষ্টভাবে এসেছে। হাদিসটি শেখায়, পরিবারের সম্মান বা রাগের কারণে কাউকে হত্যা করলে বিচার থেকে ছাড় পাওয়া যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চার সাক্ষী ছাড়া যিনার অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।
- নিজ হাতে হত্যা করলে বিচারিক দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
- গুরুতর অভিযোগে প্রমাণের নিয়ম কঠোর।
- শাসক বা বিচারকের কাছে বিষয়টি ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।
