৩৬/১৮. অধ্যায়ঃ
ইসলাম ত্যাগ করলে তার হুকুম
দ্বীন পরিবর্তন ও বিচারিক ফয়সালা: মালিক (র)-এর ব্যাখ্যা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَيَّرَ دِينَهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ وَمَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ مَنْ غَيَّرَ دِينَهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ أَنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنْ الْإِسْلَامِ إِلَى غَيْرِهِ مِثْلُ الزَّنَادِقَةِ وَأَشْبَاهِهِمْ فَإِنَّ أُولَئِكَ إِذَا ظُهِرَ عَلَيْهِمْ قُتِلُوا وَلَمْ يُسْتَتَابُوا لِأَنَّهُ لَا تُعْرَفُ تَوْبَتُهُمْ وَأَنَّهُمْ كَانُوا يُسِرُّونَ الْكُفْرَ وَيُعْلِنُونَ الْإِسْلَامَ فَلَا أَرَى أَنْ يُسْتَتَابَ هَؤُلَاءِ وَلَا يُقْبَلُ مِنْهُمْ قَوْلُهُمْ وَأَمَّا مَنْ خَرَجَ مِنْ الْإِسْلَامِ إِلَى غَيْرِهِ وَأَظْهَرَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ يُسْتَتَابُ فَإِنْ تَابَ وَإِلَّا قُتِلَ وَذَلِكَ لَوْ أَنَّ قَوْمًا كَانُوا عَلَى ذَلِكَ رَأَيْتُ أَنْ يُدْعَوْا إِلَى الْإِسْلَامِ وَيُسْتَتَابُوا فَإِنْ تَابُوا قُبِلَ ذَلِكَ مِنْهُمْ وَإِنْ لَمْ يَتُوبُوا قُتِلُوا وَلَمْ يَعْنِ بِذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ مَنْ خَرَجَ مِنْ الْيَهُودِيَّةِ إِلَى النَّصْرَانِيَّةِ وَلَا مِنْ النَّصْرَانِيَّةِ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ وَلَا مَنْ يُغَيِّرُ دِينَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَدْيَانِ كُلِّهَا إِلَّا الْإِسْلَامَ فَمَنْ خَرَجَ مِنْ الْإِسْلَامِ إِلَى غَيْرِهِ وَأَظْهَرَ ذَلِكَ فَذَلِكَ الَّذِي عُنِيَ بِهِ وَاللهُ أَعْلَمُ.
যায়দ ইব্নু আসলাম (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ দ্বীন (ধর্ম)-কে পরিবর্তন করে তার গর্দান উড়িয়ে দাও। (সহীহ, ইমাম বুখারী অন্য সনদে বর্ণনা করেন ৩০১৭, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)মালিক (র) বলেন, আমার কাছে রসূলুল্লাহ্- “এর কথা-যে দ্বীন পরিবর্তন করে ফেলে তার গর্দান উড়িয়ে দাও”-এর অর্থ এই যে, কোন মুসলমান ইসলাম ধর্ম ছেড়ে দেয় ও ধর্মত্যাগী (যিনদীক) বা এই ধরনের কিছু হয়ে যায় তবে তাদের উপর মুসলমানগণ বিজয়ী হলে তাদেরকে কতল করে দেয়ার হুকুম। তাদেরকে তাওবা করারও সময় দেয়া হবে না কারণ তাদের তাওবার কোন মূল্য নেই। যেহেতু তাদের অন্তরে কুফরী অংকিত হয়ে গিয়েছে, ফলে তারা প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করবে এবং অন্তরে কুফরী করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোন কারণে ইসলাম হতে বের হয়ে যায় তবে তাকে তাওবা করাবে। আর যদি তাওবা করতে অস্বীকার করে তবে হত্যা করে দিবে। আর যদি কোন কাফের অন্য কোন কুফরী ধর্ম গ্রহণ করে যেমন ইহুদী হতে নাসারা হয়ে গেল তবে সে তার দ্বীন পরিবর্তন করেছে বলে এই হাদীস বোঝা যায় না। এই হাদীস দ্বারা একমাত্র ইসলাম হতে বহিষ্কার হওয়ার হুকুম প্রকাশ পায়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪১০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি কথার উল্লেখ আছে, এবং মালিক (র) তার অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। মালিক (র)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিষয়টি ইসলাম ত্যাগ করে অন্য অবস্থায় যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত। তিনি যিনদীক ধরনের লোকদের কথা আলাদা করে বলেন, যারা প্রকাশ্যে ইসলাম দেখালেও অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে। আবার কেউ প্রকাশ্যে ইসলাম ছেড়ে দিলে তাকে তাওবার দিকে ডাকার কথা বলা হয়েছে। এই বর্ণনা বিচারিক ফয়সালার ভাষায় এসেছে; এটি কোনো ব্যক্তির নিজের হাতে আইন নেওয়ার নির্দেশ নয়। হাদিসের আলোচনায় ‘দ্বীন পরিবর্তন’, ‘তাওবা’ এবং ‘শাসন-ফয়সালা’—এই তিনটি দিক স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মত্যাগের বিষয়ে বর্ণনাটি বিচারিক ফয়সালার আলোচনায় এসেছে।
- মালিক (র) প্রকাশ্য ইসলামত্যাগ ও গোপন কুফরকে আলাদা করেছেন।
- প্রকাশ্যভাবে বের হয়ে গেলে তাওবার দিকে ডাকার কথা এসেছে।
- এ ধরনের গুরুতর বিষয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বিচারিক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
