৩২/১১. অধ্যায়ঃ
ধারে বা বাকীতে মাল বিক্রয় করার বিধান
মুযারাবায় ধারে বিক্রি: ব্যবসায়ী মারা গেলে কী হবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৭৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৭৯
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا فَاشْتَرَى بِهِ سِلْعَةً ثُمَّ بَاعَ السِّلْعَةَ بِدَيْنٍ فَرَبِحَ فِي الْمَالِ ثُمَّ هَلَكَ الَّذِي أَخَذَ الْمَالَ قَبْلَ أَنْ يَقْبِضَ الْمَالَ قَالَ إِنْ أَرَادَ وَرَثَتُهُ أَنْ يَقْبِضُوا ذَلِكَ الْمَالَ وَهُمْ عَلَى شَرْطِ أَبِيهِمْ مِنْ الرِّبْحِ فَذَلِكَ لَهُمْ إِذَا كَانُوا أُمَنَاءَ عَلَى ذَلِكَ فَإِنْ كَرِهُوا أَنْ يَقْتَضُوهُ وَخَلَّوْا بَيْنَ صَاحِبِ الْمَالِ وَبَيْنَهُ لَمْ يُكَلَّفُوا أَنْ يَقْتَضُوهُ وَلَا شَيْءَ عَلَيْهِمْ وَلَا شَيْءَ لَهُمْ إِذَا أَسْلَمُوهُ إِلَى رَبِّ الْمَالِ فَإِنْ اقْتَضَوْهُ فَلَهُمْ فِيهِ مِنْ الشَّرْطِ وَالنَّفَقَةِ مِثْلُ مَا كَانَ لِأَبِيهِمْ فِي ذَلِكَ هُمْ فِيهِ بِمَنْزِلَةِ أَبِيهِمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونُوا أُمَنَاءَ عَلَى ذَلِكَ فَإِنَّ لَهُمْ أَنْ يَأْتُوا بِأَمِينٍ ثِقَةٍ فَيَقْتَضِي ذَلِكَ الْمَالَ فَإِذَا اقْتَضَى جَمِيعَ الْمَالِ وَجَمِيعَ الرِّبْحِ كَانُوا فِي ذَلِكَ بِمَنْزِلَةِ أَبِيْهِمْ.قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا عَلَى أَنَّهُ يَعْمَلُ فِيهِ فَمَا بَاعَ بِهِ مِنْ دَيْنٍ فَهُوَ ضَامِنٌ لَهُ إِنَّ ذَلِكَ لَازِمٌ لَهُ إِنْ بَاعَ بِدَيْنٍ فَقَدْ ضَمِنَهُ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত এই যে, এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে অর্থ যোগান দিল। সে উহা দ্বারা পণ্য খরিদ করল, অতঃপর উহা লাভের উপর ধারে বিক্রয় করল এবং টাকা উশুল করার পূর্বেই ব্যবসায়ী মারা গেল। তবে ব্যবসায়ীর ওয়ারিসদের ইখতিয়ার থাকবে যে, হয় ব্যবসায়ীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে মাল উশুল করবে বা ঐ কর্যের টাকা পুঁজি বিনিয়োগকারীকে উশুল করতে দিয়ে নিজেরা সরে পড়বে, সেই অবস্থায় তাদের কিছুই মিলবে না, যদি ওয়ারিসগণ তাগাদা করে তার কর্য আদায় করে নিয়ে থাকে। তবে ব্যবসায়ী খরচ ও লভ্যাংশ শর্ত মুতাবিক যা পাইত ওয়ারিসগণও তা পাবে যদি তারা সত্যিকারের ওয়ারিস হয়ে থাকে। যদি এমন হয় যে, তাদের উপর বিশ্বাস করা যায় না, তবে কোন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে কর্য উশুল করে দেবে। যদি উহা উশুল হয়ে যায় তবে উহাদেরও ব্যবসায়ীর মতো হক মিলবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি পুঁজি বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীর সাথে এই শর্ত করে থাকে যে, ধারে মাল বিক্রয় করবে না, করলে সে তার জন্য দায়ী হবে। এর পর যদি ব্যবসায়ী ধারে বিক্রয় করে থাকে তবে সে নিজেই দায়ী হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মুযারাবার একটি বাস্তব অবস্থা এসেছে। একজন ব্যবসায়ী অর্থ নিয়ে পণ্য কিনল, লাভে ধারে বিক্রি করল, কিন্তু টাকা আদায়ের আগেই মারা গেল। তখন তার ওয়ারিসদের সুযোগ থাকবে—তারা চাইলে ব্যবসায়ীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে টাকা আদায় করবে এবং আগের শর্ত অনুযায়ী খরচ ও লাভের অংশ পাবে। আর চাইলে তারা আদায়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পুঁজি বিনিয়োগকারীকে টাকা উশুল করতে দিতে পারে; তখন তাদের কিছু পাওয়া থাকবে না। যদি ওয়ারিসরা বিশ্বস্ত না হয়, তাহলে একজন আমানতদার ব্যক্তিকে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করা যাবে। শেষে বলা হয়েছে, যদি অর্থদাতা শর্ত করে থাকে যে ধারে বিক্রি করলে ব্যবসায়ী দায়ী হবে, তাহলে সে শর্ত অনুযায়ী দায়ী হবে। মূল শিক্ষা হলো, ধারে বিক্রির আগে শর্ত ও দায় পরিষ্কার থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধারে বিক্রির শর্ত আগে থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
- ব্যবসায়ী মারা গেলে ওয়ারিসরা চাইলে আদায়ের দায়িত্ব নিতে পারে।
- বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে আমানতদার ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া যায়।
- শর্ত ভেঙে ধারে বিক্রি করলে দায় তৈরি হতে পারে।
