৩২/৮. অধ্যায়ঃ

শরীকী কারবারের মালে সীমালংঘন

মুযারাবার মাল নিজের কাজে ব্যবহার করলে দায়ের নিয়ম

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৭৬

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا فَعَمِلَ فِيهِ فَرَبِحَ ثُمَّ اشْتَرَى مِنْ رِبْحِ الْمَالِ أَوْ مِنْ جُمْلَتِهِ جَارِيَةً فَوَطِئَهَا فَحَمَلَتْ مِنْهُ ثُمَّ نَقَصَ الْمَالُ قَالَ مَالِك إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ أُخِذَتْ قِيمَةُ الْجَارِيَةِ مِنْ مَالِهِ فَيُجْبَرُ بِهِ الْمَالُ فَإِنْ كَانَ فَضْلٌ بَعْدَ وَفَاءِ الْمَالِ فَهُوَ بَيْنَهُمَا عَلَى الْقِرَاضِ الْأَوَّلِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَفَاءٌ بِيعَتْ الْجَارِيَةُ حَتَّى يُجْبَرَ الْمَالُ مِنْ ثَمَنِهَا قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا فَتَعَدَّى فَاشْتَرَى بِهِ سِلْعَةً وَزَادَ فِي ثَمَنِهَا مِنْ عِنْدِهِ قَالَ مَالِك صَاحِبُ الْمَالِ بِالْخِيَارِ إِنْ بِيعَتْ السِّلْعَةُ بِرِبْحٍ أَوْ وَضِيعَةٍ أَوْ لَمْ تُبَعْ إِنْ شَاءَ أَنْ يَأْخُذَ السِّلْعَةَ أَخَذَهَا وَقَضَاهُ مَا أَسْلَفَهُ فِيهَا وَإِنْ أَبَى كَانَ الْمُقَارَضُ شَرِيكًا لَهُ بِحِصَّتِهِ مِنْ الثَّمَنِ فِي النَّمَاءِ وَالنُّقْصَانِ بِحِسَابِ مَا زَادَ الْعَامِلُ فِيهَا مِنْ عِنْدِهِ.قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ أَخَذَ مِنْ رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا ثُمَّ دَفَعَهُ إِلَى رَجُلٍ آخَرَ فَعَمِلَ فِيهِ قِرَاضًا بِغَيْرِ إِذْنِ صَاحِبِهِ إِنَّهُ ضَامِنٌ لِلْمَالِ إِنْ نَقَصَ فَعَلَيْهِ النُّقْصَانُ وَإِنْ رَبِحَ فَلِصَاحِبِ الْمَالِ شَرْطُهُ مِنْ الرِّبْحِ ثُمَّ يَكُونُ لِلَّذِي عَمِلَ شَرْطُهُ بِمَا بَقِيَ مِنْ الْمَالِقَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ تَعَدَّى فَتَسَلَّفَ مِمَّا بِيَدَيْهِ مِنْ الْقِرَاضِ مَالًا فَابْتَاعَ بِهِ سِلْعَةً لِنَفْسِهِ قَالَ مَالِك إِنْ رَبِحَ فَالرِّبْحُ عَلَى شَرْطِهِمَا فِي الْقِرَاضِ وَإِنْ نَقَصَ فَهُوَ ضَامِنٌ لِلنُّقْصَانِ قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا فَاسْتَسْلَفَ مِنْهُ الْمَدْفُوعُ إِلَيْهِ الْمَالُ مَالًا وَاشْتَرَى بِهِ سِلْعَةً لِنَفْسِهِ إِنَّ صَاحِبَ الْمَالِ بِالْخِيَارِ إِنْ شَاءَ شَرِكَهُ فِي السِّلْعَةِ عَلَى قِرَاضِهَا وَإِنْ شَاءَ خَلَّى بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا وَأَخَذَ مِنْهُ رَأْسَ الْمَالِ كُلَّهُ وَكَذَلِكَ يُفْعَلُ بِكُلِّ مَنْ تَعَدَّى.

মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

যদি শরীকী কারবারে ব্যবসায়ী ব্যবসা করে মুনাফা করল। অতঃপর মূলধন বা লভ্যাংশ দ্বারা একটি দাসী ক্রয় করে তার সাথে সহবাস করল। এতে সে গর্ভবতী হল, আর পরবর্তীতে ব্যবসায়ে ক্ষতি হল তা হলে ব্যবসায়ীর নিজস্ব মাল হতে ঐ দাসীর মূল্য নিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হবে। তারপর অতিরিক্ত মাল দুইজনের মধ্যে বণ্টিত হবে। আর যদি ক্ষতিপূরণ না হয় (ক্ষতিপূরণ করার মতো মাল তার না থাকে), তবে ঐ দাসী বিক্রয় করে ক্ষতিপূরণ করা হবে।মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ব্যবসায়ী মাল খরিদ কারার সময় নিজের পক্ষ হতে বিনা কারণে উহার মূল্য বাড়িয়ে দেয় তবে অর্থ বিনিয়োগকারীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। সে হয় পণ্য সামগ্রী ঐভাবে থাকতে দিবে না মূলধন হতে যা অতিরিক্ত দেয়া হয়েছে, উহা আদায় করে দিবে অথবা ঐ মালে ব্যবসায়ীকে শরীক করে নিবে।মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ব্যবসায়ী অন্য কাউকেও শরীকী কারবারে মাল দিয়ে দেয় এবং অর্থ বিনিয়োগকারীর নিকট জিজ্ঞেস না করে থাকে, তবে সে মালের জন্য দায়ী হবে। যদি উহাতে ক্ষতি হয়, তবে প্রথমে ব্যবসায়ী নিজের পক্ষ হতে এই ক্ষতিপূরণ করবে আর যদি লাভ হয় তবে অর্থ বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ শর্ত মতো আদায় করবে। অতঃপর বাড়তি মালে প্রথম ব্যবসায়ী ও দ্বিতীয় ব্যবসায়ী উভয়ে শরীক হবে।মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ব্যবসায়ী শরীকী কারবারের মালের দ্বারা নিজের জন্য কোন কিছু খরিদ করে, তবে অর্থ বিনিয়োগকারী ইচ্ছা করলে উহাতে নিজেও শরীক হতে পারে বা উহা ছেড়ে দিতে পারে এবং নিজের মূলধন ব্যবসায়ী হতে ফিরিয়ে নিতে পারে। ব্যবসায়ী এই ধরনের যেকোনো সীমালংঘন করলে অর্থ বিনিয়োগকারীর মূলধন ফিরিয়ে নেয়ার অধিকার থাকবে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭৬-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় মুযারাবার মাল নিয়ে সীমালঙ্ঘনের কয়েকটি অবস্থা এসেছে। ব্যবসায়ী যদি মূলধন বা লাভের টাকা দিয়ে দাসী কিনে নিজের জন্য ব্যবহার করে, পরে ব্যবসায় ক্ষতি হয়, তবে তার নিজের মাল থেকে দাসীর মূল্য নিয়ে মূলধন পূরণ করা হবে। নিজের মাল না থাকলে দাসী বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ হবে। আবার ব্যবসায়ী যদি মাল কেনার সময় নিজের পক্ষ থেকে অকারণে দাম বাড়ায়, অর্থদাতার পছন্দের অধিকার থাকবে। ব্যবসায়ী যদি অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে মুযারাবার মাল দিয়ে দেয়, ক্ষতি হলে সে দায়ী হবে। আর মুযারাবার মাল দিয়ে নিজের জন্য পণ্য কিনলে অর্থদাতা চাইলে তাতে শরীক হতে পারেন বা মূলধন ফেরত নিতে পারেন। মূল শিক্ষা হলো, অর্পিত ব্যবসার টাকা নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুযারাবার মাল নিজের কাজে ব্যবহার করা সীমালঙ্ঘন হতে পারে।
  • অনুমতি ছাড়া অন্যকে মাল দিলে ক্ষতির দায় আসতে পারে।
  • অর্থদাতার সম্পদে নিজের স্বার্থ মেশানো থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
  • সীমালঙ্ঘন হলে মূলধন ফেরত নেওয়ার অধিকার তৈরি হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন