৩২/২. অধ্যায়ঃ
কোন্ কোন্ মুযারাবা বৈধ
মুযারাবার বৈধ নিয়ম: শ্রম, খরচ ও দায়িত্বের সীমা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৭০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৭০
قَالَ مَالِك وَجْهُ الْقِرَاضِ الْمَعْرُوفِ الْجَائِزِ أَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ الْمَالَ مِنْ صَاحِبِهِ عَلَى أَنْ يَعْمَلَ فِيهِ وَلَا ضَمَانَ عَلَيْهِ وَنَفَقَةُ الْعَامِلِ فِي الْمَالِ فِي سَفَرِهِ مِنْ طَعَامِهِ وَكِسْوَتِهِ وَمَا يُصْلِحُهُ بِالْمَعْرُوفِ بِقَدْرِ الْمَالِ إِذَا شَخَصَ فِي الْمَالِ إِذَا كَانَ الْمَالُ يَحْمِلُ ذَلِكَ فَإِنْ كَانَ مُقِيمًا فِي أَهْلِهِ فَلَا نَفَقَةَ لَهُ مِنْ الْمَالِ وَلَا كِسْوَةَ. قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يُعِينَ الْمُتَقَارِضَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ عَلَى وَجْهِ الْمَعْرُوفِ إِذَا صَحَّ ذَلِكَ مِنْهُمَا.قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يَشْتَرِيَ رَبُّ الْمَالِ مِمَّنْ قَارَضَهُ بَعْضَ مَا يَشْتَرِي مِنْ السِّلَعِ إِذَا كَانَ ذَلِكَ صَحِيحًا عَلَى غَيْرِ شَرْطٍ.قَالَ مَالِك فِيمَنْ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ وَإِلَى غُلَامٍ لَهُ مَالًا قِرَاضًا يَعْمَلَانِ فِيهِ جَمِيعًا إِنَّ ذَلِكَ جَائِزٌ لَا بَأْسَ بِهِ لِأَنَّ الرِّبْحَ مَالٌ لِغُلَامِهِ لَا يَكُونُ الرِّبْحُ لِلسَّيِّدِ حَتَّى يَنْتَزِعَهُ مِنْهُ وَهُوَ بِمَنْزِلَةِ غَيْرِهِ مِنْ كَسْبِهِ
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুযারাবাত বা শরীকী কারবার এইভাবে বৈধ যে, কেউ কারো নিকট হতে এই শর্তে টাকা নেয় যে, সে শ্রম ও মেহনত করবে। ক্ষতি হলে সে দায়ী থাকবে না। সফরে খাওয়া-দাওয়া এবং বহন খরচ ও অন্যান্য বৈধ খরচ ঐ মাল হতে নিয়ম মাফিক ব্যয় করা হবে মূলধন অনুযায়ী। অবশ্য অর্থ গ্রহণকারী আবাসে থাকলে মূলধন হতে ব্যয় করতে পারবে না।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি অর্থ গ্রহণকারী অর্থদাতাকে, অর্থদাতা অর্থ গ্রহণকারীকে তার শ্রমের পরিমাণ মতো কোন শর্ত ব্যতীত সাহায্য করে তবে তাতে কোন ক্ষতি নেই। যদি অর্থদাতা অর্থ গ্রহণকারী হতে শর্ত ব্যতীত কোন বস্তু খরিদ করে তবে এতেও কোন ক্ষতি নেই।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে এবং স্বীয় দাসকে শরীকী কারবারের জন্য অর্থ দেয় এবং এই শর্ত করে যে, উভয়ই ইহাতে কাজ করবে, তবে তা জায়েয আছে। কারণ নির্ধারিত লভ্যাংশের মালিক ক্রীতদাস হবে, তার প্রভু উহা ছিনিয়ে নিতে পারবে না, এই মালের স্বত্বাধিকারী ক্রীতদাসই থাকবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই অংশে মুযারাবা বা শরীকী কারবারের বৈধ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে টাকা নেয়, সে শ্রম দেবে, আর ক্ষতি হলে সে দায়ী থাকবে না—এটাই মূল কাঠামো হিসেবে বলা হয়েছে। সফরে থাকলে খাবার, পোশাক, বহন খরচ ও প্রয়োজনীয় বৈধ খরচ মূলধন থেকে নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া যাবে, তবে নিজ এলাকায় থাকলে তা নেওয়া যাবে না। আরও বলা হয়েছে, শর্ত ছাড়া একে অন্যকে পরিচিত নেক ব্যবহারের ভিত্তিতে সাহায্য করলে সমস্যা নেই। অর্থদাতা যদি শর্ত ছাড়া ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিছু কেনেন, তাতেও সমস্যা নেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মুযারাবায় চুক্তি পরিষ্কার, খরচ সীমিত এবং শর্তের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুযারাবায় শ্রমদাতা সাধারণ ক্ষতির দায় বহন করে না।
- সফরের প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ম অনুযায়ী মূলধন থেকে নেওয়া যায়।
- নিজ এলাকায় থাকলে ব্যবসায়ী মূলধন থেকে খরচ নিতে পারে না।
- শর্ত ছাড়া পরিচিত সহযোগিতা বৈধ হতে পারে।
