৩১/৪৪. অধ্যায়ঃ
ক্রয়-বিক্রয়ে যা নিষিদ্ধ
নাজাশ নিষেধ: ভুয়া দাম বাড়িয়ে ধোঁকা দেওয়া কেন ভুল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৬৩
قَالَ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ النَّجْشِ قَالَ مَالِك وَالنَّجْشُ أَنْ تُعْطِيَهُ بِسِلْعَتِهِ أَكْثَرَ مِنْ ثَمَنِهَا وَلَيْسَ فِي نَفْسِكَ اشْتِرَاؤُهَا فَيَقْتَدِي بِكَ غَيْرُكَ.
ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশ করতে নিষেধ করেছেন। নাজাশ বলা হয় মালের উপযুক্ত দামের চাইতে অধিক দাম বলা অথচ তার ক্রয়ের ইচ্ছা নেই। বরং এই অধিক দাম বলার উদ্দেশ্য যেন অন্য ব্যক্তি তার অনুসরণ করে ধোঁকায় পড়ে এই দামে উহা ক্রয় করে। (বুখারী ২১৪২, মুসলিম ১৫১৬)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নাজাশ নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসের ব্যাখ্যাতেই নাজাশের অর্থ স্পষ্ট করা হয়েছে—কোনো পণ্যের প্রকৃত বা উপযুক্ত দামের চেয়ে বেশি দাম বলা, অথচ নিজের কেনার ইচ্ছা নেই। উদ্দেশ্য হলো অন্য ক্রেতা যেন তাকে দেখে বেশি দাম বলে এবং ধোঁকায় পড়ে সেই দামে পণ্যটি কিনে নেয়। ইসলামে ব্যবসার মূলনীতি হলো সত্য কথা, পরিষ্কার ইচ্ছা এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণ। নাজাশে বাহ্যিকভাবে দাম বলা হলেও ভেতরে থাকে প্রতারণা। এতে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাজারের বিশ্বাস নষ্ট হয় এবং বিক্রেতাও অন্যায় লাভের পথে জড়াতে পারে। তাই নাজাশের হাদিস আমাদের শেখায়, দাম বলা যেন বাস্তব আগ্রহের ভিত্তিতে হয়, মানুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেনার ইচ্ছা ছাড়া দাম বাড়ানো ধোঁকার শামিল।
- নাজাশের মাধ্যমে অন্য ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করা নিষেধ।
- পণ্যের দাম নিয়ে খেলা বাজারের বিশ্বাস নষ্ট করে।
- সৎ ব্যবসায় ইচ্ছা ও কথার মধ্যে মিল থাকা দরকার।
