৩১/৪৩. অধ্যায়ঃ
‘সালাফ’ বা ঋণে যা অবৈধ
ঋণে সামান্য অতিরিক্ত শর্তও কেন বিপজ্জনক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৬০
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ مَنْ أَسْلَفَ سَلَفًا فَلَا يَشْتَرِطْ أَفْضَلَ مِنْهُ وَإِنْ كَانَتْ قَبْضَةً مِنْ عَلَفٍ فَهُوَ رِبًا.قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ مَنْ اسْتَسْلَفَ شَيْئًا مِنْ الْحَيَوَانِ بِصِفَةٍ وَتَحْلِيَةٍ مَعْلُومَةٍ فَإِنَّهُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ وَعَلَيْهِ أَنْ يَرُدَّ مِثْلَهُ إِلَّا مَا كَانَ مِنْ الْوَلَائِدِ فَإِنَّهُ يُخَافُ فِي ذَلِكَ الذَّرِيعَةُ إِلَى إِحْلَالِ مَا لَا يَحِلُّ فَلَا يَصْلُحُ وَتَفْسِيرُ مَا كُرِهَ مِنْ ذَلِكَ أَنْ يَسْتَسْلِفَ الرَّجُلُ الْجَارِيَةَ فَيُصِيبُهَا مَا بَدَا لَهُ ثُمَّ يَرُدُّهَا إِلَى صَاحِبِهَا بِعَيْنِهَا فَذَلِكَ لَا يَصْلُحُ وَلَا يَحِلُّ وَلَمْ يَزَلْ أَهْلُ الْعِلْمِ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَلَا يُرَخِّصُونَ فِيهِ لِأَحَدٍ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলতেন, যদি কেউ কাউকেও ঋণ দেয় তবে উহা হতে উৎকৃষ্ট বস্তু বা অতিরিক্ত কিছুর শর্ত করবে না যদিও একমুষ্টি ঘাস হয়। কেননা উহা সুদ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, যদি কেউ কোন পশু ধার নেয় তাতে কোন অসুবিধা নেই, তবে তাকে ঐরূপ পশুই পরিশোধ করতে হবে। তবে ক্রীতদাসীদের ব্যাপারে ইহা প্রযোজ্য হবে না, কারণ এতে যা নিষিদ্ধ তা হালাল করার আশংকা রয়েছে। এর ব্যাখ্যা এই, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে ক্রীতদাসী ধার দিল, সে উহার সাথে সহবাস করল, অতঃপর মালিকের নিকট উহাকে ফেরত দিল, ইহা বৈধ নয়। আহলে-ইলম [উলামা] এইরূপ করতে বরাবর নিষেধ করতেন এবং কাউকেও এর অনুমতি দিতেন না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, কেউ ঋণ দিলে সে যেন তার চেয়ে উৎকৃষ্ট বস্তু বা অতিরিক্ত কিছুর শর্ত না করে, যদিও তা একমুষ্টি ঘাস হয়; কারণ তা রিবা। এখানে খুব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা শর্ত করা ছোট হোক বা বড়—তা সুদের পথে পড়ে। ইমাম মালিক (রহঃ) আরও বলেন, পরিচিত গুণ ও বর্ণনা অনুযায়ী পশু ধার নেওয়ায় সমস্যা নেই, তবে একই ধরনের পশু ফেরত দিতে হবে। কিন্তু ক্রীতদাসী ধার দেওয়ার বিষয়ে তিনি নিষেধের আশঙ্কা ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এতে হারামকে বৈধ করার দরজা খুলতে পারে। মূল শিক্ষা হলো, ঋণকে অতিরিক্ত লাভ বা নিষিদ্ধ সুবিধার মাধ্যম বানানো যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণে অতিরিক্ত বা উৎকৃষ্ট ফেরতের শর্ত করা রিবার অন্তর্ভুক্ত।
- সামান্য বাড়তি শর্তও ঋণকে সন্দেহপূর্ণ করে তুলতে পারে।
- পশু ধার নিলে একই ধরনের বস্তু ফেরত দেওয়ার কথা এসেছে।
- হারামকে বৈধ করার পথ খুলে দিতে পারে এমন লেনদেন এড়াতে হয়।
