৩১/৩৭. অধ্যায়ঃ
যে ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা দু’জনের ইখতিয়ার থাকে (বায়’উল-খিয়ার)
বায়উল খিয়ার: ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ারের সহজ ব্যাখ্যা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৪৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৪৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُتَبَايِعَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالْخِيَارِ عَلَى صَاحِبِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا إِلَّا بَيْعَ الْخِيَارِ قَالَ مَالِك وَلَيْسَ لِهَذَا عِنْدَنَا حَدٌّ مَعْرُوفٌ وَلَا أَمْرٌ مَعْمُولٌ بِهِ فِيْهِ.
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে তার অপর পক্ষের উপর, যতক্ষণ যাবত তারা পৃথক না হয়ে যায়। কিন্তু “বায়-উল-খিয়ার” [১] -এর ব্যাপার স্বতন্ত্র। (বুখারী ২১১১, মুসলিম ১৫৩১)মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, এই প্রকার সময়সীমা নির্ধারণ মদীনার আলিমগণও করেননি।
[১] ক্রয়-বিক্রয় বহাল রাখা কিংবা উহাকে রদ করে দেয়া এতদুভয়ের মধ্যে যেটি পছন্দনীয় সেটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার থাকার নাম “বায়‘উল-খিয়ার”।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ পৃথক না হয়, উভয়েরই অপর পক্ষের উপর ইখতিয়ার থাকে। অর্থাৎ বেচাকেনার মজলিশে তারা চূড়ান্তভাবে আলাদা হওয়ার আগে সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকে। তবে বায়উল খিয়ার বা শর্তযুক্ত ইখতিয়ারের ব্যাপার আলাদা। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, এই বিষয়ে তাঁদের নিকট নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং মদীনার আলিমদের মধ্যেও এমন নির্দিষ্ট সীমা প্রচলিত ছিল না। এই হাদিস বেচাকেনায় তাড়াহুড়া না করে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা দেয়। ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনের অধিকার আছে, কিন্তু সেই অধিকার শর্ত ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোঝা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্রেতা ও বিক্রেতা পৃথক হওয়ার আগে সিদ্ধান্তের সুযোগ পায়।
- শর্তযুক্ত ইখতিয়ারের বিষয় সাধারণ ইখতিয়ার থেকে আলাদা।
- বেচাকেনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সতর্কতা দরকার।
- লেনদেনে দুই পক্ষের অধিকার স্বীকার করা ন্যায্যতার অংশ।
