৩১/২৮. অধ্যায়ঃ
কুকুরের মূল্য
হারাম উপার্জন: কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের আয় ও কাহিনের পারিশ্রমিক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৩৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৩৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ يَعْنِي بِمَهْرِ الْبَغِيِّ مَا تُعْطَاهُ الْمَرْأَةُ عَلَى الزِّنَا وَحُلْوَانُ الْكَاهِنِ رَشْوَتُهُ وَمَا يُعْطَى عَلَى أَنْ يَتَكَهَّنَ قَالَ مَالِك أَكْرَهُ ثَمَنَ الْكَلْبِ الضَّارِي وَغَيْرِ الضَّارِي لِنَهْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ.
আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর মাহর এবং ভবিষ্যদ্বক্তার উপার্জন হতে নিষেধ করেছেন। এর অর্থ এই ব্যভিচারিণীর মাহর যা তাকে ব্যভিচারের বিনিময়ে দেয়া হয় তা, আর (زبزه) ভবিষ্যদ্বক্তার [১] “হুলওয়ান” হচ্ছে তার উৎকোচ যা ভাগ্য গণনা করার জন্য তাকে দেয়া হয়। (বুখারী ২২৩৭, মুসলিম ১৫৬৭)মালিক (রহঃ) বলেনঃ শিকারী এবং অশিকারী উভয় প্রকারের কুকুরের মূল্য হারাম। কারণ রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
[১] كاهن-যে ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা এবং অদৃশ্য জগতের খবর বলে তাকে কাহিন বলা হয়। এ ছাড়াও জাহিলী যুগে অনেক রকমের কাহানত প্রচলিত ছিল, কেউ বলত আমার বাধ্যগত জিন আছে, যে অনেক গোপন খবর আমার নিকট পৌঁছায়, কেউ দাবি করত- সে তার বুদ্ধি বিচক্ষণতার দ্বারা অদৃশ্য জগতের অনেক খবর বলে দিতে পারে। কেউ বলত, আলামত দেখে সে অনেক কিছু বলে দিতে সক্ষম, যেমন কে চুরি করেছে, কে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে ইত্যাদি খবর। এই জাতীয় কাহিনকে আররাফ বলা হয়। আর কেউ দৈবজ্ঞকেও কাহিন বলে থাকে। হাদীসে বর্ণিত কাহিন শব্দ উপরিউক্ত সকল প্রকারের কাহানতকে শামিল করেছে অর্থাৎ যাবতীয় কাহানতই হাদীসের শব্দের আওতাভুক্ত হবে এবং হারাম বলে গণ্য হবে। -আওজাযুল মাসালিক।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ধরনের উপার্জন থেকে নিষেধ করেছেন: কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর মাহর এবং ভবিষ্যদ্বক্তা বা কাহিনের হুলওয়ান। বর্ণনায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ব্যভিচারিণীর মাহর বলতে ব্যভিচারের বিনিময়ে দেওয়া অর্থ বোঝানো হয়েছে। আর কাহিনের হুলওয়ান হলো ভাগ্য গণনা করার জন্য তাকে দেওয়া উৎকোচ বা পারিশ্রমিক। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, শিকারী হোক বা অশিকারী—কুকুরের মূল্য তিনি অপছন্দ করেন, কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন। এই হাদিস উপার্জনে পবিত্রতা, নৈতিকতা এবং নিষিদ্ধ কাজের আয় থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুকুরের মূল্য গ্রহণ থেকে হাদিসে নিষেধ এসেছে।
- ব্যভিচারের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া নিষিদ্ধ উপার্জনের মধ্যে পড়ে।
- ভাগ্য গণনার নামে পারিশ্রমিক নেওয়া নিন্দনীয়।
- আয়ের উৎস halal কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
