৩১/২৭. অধ্যায়ঃ
গোশতের বিনিময়ে গোশত বিক্রয়
গোশত বিনিময়ের বিধান: সমান, নগদ ও ভিন্ন জাতের নিয়ম
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৩৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৩৩
قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي لَحْمِ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْوُحُوشِ أَنَّهُ لَا يُشْتَرَى بَعْضُهُ بِبَعْضٍ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ وَزْنًا بِوَزْنٍ يَدًا بِيَدٍ وَلَا بَأْسَ بِهِ وَإِنْ لَمْ يُوزَنْ إِذَا تَحَرَّى أَنْ يَكُونَ مِثْلًا بِمِثْلٍ يَدًا بِيَدٍ.قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ بِلَحْمِ الْحِيتَانِ بِلَحْمِ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْوُحُوشِ كُلِّهَا اثْنَيْنِ بِوَاحِدٍ وَأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ يَدًا بِيَدٍ فَإِنْ دَخَلَ ذَلِكَ الْأَجَلُ فَلَا خَيْرَ فِيْهِ.قَالَ مَالِك وَأَرَى لُحُومَ الطَّيْرِ كُلَّهَا مُخَالِفَةً لِلُحُومِ الْأَنْعَامِ وَالْحِيتَانِ فَلَا أَرَى بَأْسًا بِأَنْ يُشْتَرَى بَعْضُ ذَلِكَ بِبَعْضٍ مُتَفَاضِلًا يَدًا بِيَدٍ وَلَا يُبَاعُ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ إِلَى أَجَلٍ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উটের, গরুর ও ছাগলের গোশত এবং এই জাতীয় কিছু পরিমাণকে বন্য পশুদের গোশত সম্বন্ধে আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই- উহার কিছু পরিমাণের বিনিময়ে সমান সমান এবং সমওজনের এবং নগদ ছাড়া ক্রয় করা হবে না। (উহাকে) ওজন করা না হলেও কোন দোষ নেই- যদি অনুমান উহা সমান সমান হয় এবং নগদ বিক্রয় হয়।মালিক (রহঃ) বলেনঃ মাছের গোশতকে উটের, গরুর ও ছাগলের গোশত এবং উহাদের সদৃশ সকল প্রকার বন্য পশুর গোশতের বিনিময়ে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নেই। একের বিনিময়ে দুই বা ততোধিক [বিক্রয় করা] নগদ অর্থে। যদি এতে মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় তবে আর উহাতে মঙ্গল নাই।মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, যাবতীয় পাখির গোশত চতুষ্পদ জন্তু সকলের এবং (সকল রকম) মাছের গোশত হতে ভিন্ন। উহাদের কোন একটিকে অন্য আর একটির বিনিময়ে, কিছু বাড়তিতে নগদ ক্রয় করাতে কোন দোষ দেখি না (অর্থাৎ জায়েয আছে), কিন্তু এদের কোন কিছুকে ধারে বিক্রয় করা যাবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (রহঃ) গোশত বিনিময়ের নিয়ম ব্যাখ্যা করেছেন। উট, গরু, ছাগল এবং এ ধরনের বন্য পশুর গোশত একে অন্যের সঙ্গে বিনিময় করলে সমান সমান, সমওজন এবং নগদ হতে হবে। ওজন না করলেও যদি সতর্কভাবে সমান অনুমান করা হয় এবং নগদ লেনদেন হয়, তাতে দোষ নেই বলা হয়েছে। মাছের গোশতকে উট, গরু, ছাগল বা বন্য পশুর গোশতের বিনিময়ে কম-বেশি করে নগদ বিক্রি করা যেতে পারে, তবে ধারে নয়। পাখির গোশতকে তিনি চতুষ্পদ জন্তু ও মাছের গোশত থেকে ভিন্ন দেখেছেন। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, খাদ্যজাত বিনিময়ে সমতা, নগদ আদান-প্রদান এবং জাতভেদ পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই ধরনের গোশত বিনিময়ে সমতা ও নগদ আদান-প্রদান দরকার।
- মাছের গোশত ভিন্ন হওয়ায় নগদে কম-বেশি বিনিময়ের সুযোগ আছে।
- গোশত বিনিময়ে ধারে লেনদেন সতর্কতার বিষয়।
- বেচাকেনায় পণ্যের জাত ও ধরন পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে।
