৩১/২০. অধ্যায়ঃ
যে যে অবস্থায় খাদ্যদ্রব্য ধারে বিক্রয় করা মাকরূহ
বাকী মূল্য হাতে পাওয়ার আগে খুর্মা কেনার নিষেধ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩১৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩১৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ يَنْهَيَانِ أَنْ يَبِيعَ الرَّجُلُ حِنْطَةً بِذَهَبٍ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ يَشْتَرِيَ بِالذَّهَبِ تَمْرًا قَبْلَ أَنْ يَقْبِضَ الذَّهَبَ.
আবু যিনাদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি স্বর্ণের (অথবা চাঁদির) বিনিময়ে বাকী মূল্যে গম বিক্রয় করে পরে সেই বাকী মূল্য হস্তগত হওয়ার পূর্বে তার বিনিময়ে খুর্মা ক্রয় করল। তারা উভয়ে এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবনু ইয়াসার রহ. এমন লেনদেন নিষেধ করেছেন যেখানে কেউ স্বর্ণ বা চাঁদির বাকী মূল্যে গম বিক্রি করে, তারপর সেই মূল্য হাতে পাওয়ার আগেই তার বিনিময়ে খুর্মা কিনতে চায়। অর্থাৎ বাস্তবে যে টাকা বা স্বর্ণ এখনও হাতে আসেনি, সেটিকে নতুন লেনদেনের দাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পাওনা, খাদ্যদ্রব্য ও সময়—সব মিলিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় সুদের পথ বা কব্জার আগে খাদ্য বিক্রয়ের সমস্যার কাছে নিয়ে যেতে পারে। মূল শিক্ষা হলো, পাওনা আদায় হওয়ার আগে তা দিয়ে নতুন খাদ্য লেনদেন করা থেকে সতর্ক থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনাদায়ী মূল্য হাতে পাওয়ার আগে তা দিয়ে খাদ্য কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।
- বাকী বিক্রয় ও নতুন ক্রয় একসঙ্গে জড়িয়ে গেলে সমস্যা তৈরি হয়।
- খাদ্যদ্রব্যের লেনদেনে পাওনা আদায় স্পষ্ট হওয়া দরকার।
- সাহাবী-তাবিঈদের ফিকহে সুদের পথ বন্ধ করার সতর্কতা ছিল।
