৩১/১৬. অধ্যায়ঃ
রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় প্রসঙ্গ মুদ্রা হোক, ঢালাইবিহীন রৌপ্য বা স্বর্ণ হোক
দীনার-দিরহাম বিনিময়ে সুদ এড়ানোর সহজ শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩০১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩০১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ الدِّينَارُ بِالدِّينَارِ وَالدِّرْهَمُ بِالدِّرْهَمِ وَالصَّاعُ بِالصَّاعِ وَلَا يُبَاعُ كَالِئٌ بِنَاجِزٍ.
উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(ক্রয়-বিক্রয় হবে) দীনার দীনারের বিনিময়ে, দিরহাম দিরহামের বিনিময়ে, সা’ সা’র বিনিময়ে আর নগদকে ধারের বিনিময়ে বিক্রয় করা যাবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩০১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ক্রয়-বিক্রয়ের একটি পরিষ্কার নিয়ম বলা হয়েছে। দীনারের বিনিময়ে দীনার, দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম এবং সা’ মাপের বিনিময়ে সা’ মাপ—এসব ক্ষেত্রে সমতা ও সতর্কতা রাখা দরকার। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নগদ জিনিসকে ধারের বিনিময়ে বিক্রয় করা যাবে না। অর্থাৎ লেনদেন এমনভাবে করা উচিত, যাতে এক পক্ষ এখন নেয় আর অন্য পক্ষ পরে দেবে—এভাবে ঝুঁকি, বাড়তি সুবিধা বা সুদের পথ তৈরি না হয়। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, স্বর্ণ-রূপা ও মাপা দ্রব্যের বিনিময়ে ন্যায়ভিত্তিক বেচাকেনা করা। ইসলামী ব্যবসায় রিবা থেকে বাঁচতে লেনদেন স্পষ্ট, সমান এবং নগদ হওয়া বড় একটি নীতি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই ধরনের মুদ্রা বা মাপা দ্রব্য বিনিময়ে সমতা রাখা দরকার।
- নগদ জিনিসের বিনিময়ে ধারের লেনদেন সুদের পথ খুলতে পারে।
- লেনদেন স্পষ্ট হলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের অধিকার নিরাপদ থাকে।
- ইসলামী ক্রয়-বিক্রয়ে অন্যায় বাড়তি সুবিধা এড়িয়ে চলা জরুরি।
