৩১/৯. অধ্যায়ঃ
আরিয়্যা [১] বিক্রয়
[১] বাগানের মালিক কয়েকটি খেজুর বা অন্য ফলের বৃক্ষ কাউকেও দান করলেন। দানগ্রহীতা গাছ দেখাশোনার জন্য বাগানে যাতায়াত করে থাকেন, এতে বাগানের মালিকের অসুবিধা হলে তিনি শুষ্ক ফলের বিনিময়ে দানগ্রহীতা হতে সেই বৃক্ষগুলোর ফল নিজের কর্তৃত্বে এনে পূর্ণ বাগানের কর্তৃত্ব নিজে গ্রহণ করেন। একে আরিয়্যাঃ এর বিক্রয় বলা হয়।
আরিয়্যা বিক্রয়: অনুমান করে বিক্রয়ের বিশেষ রুখসত
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৭৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৭৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْخَصَ لِصَاحِبِ الْعَرِيَّةِ أَنْ يَبِيعَهَا بِخَرْصِهَا.
যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা করেছেন এমন ব্যক্তির জন্য উহাকে অনুমান করে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারী ২১৮৮, মুসলিম ১৫৩৯)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরিয়্যা সম্পর্কে একটি বিশেষ অনুমতির কথা এসেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা করা হয়েছে এমন ব্যক্তির জন্য সেটিকে অনুমান করে বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। সাধারণ বিক্রয়ে মাপ, ওজন ও স্পষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে আরিয়্যার ক্ষেত্রে অনুমান বা খরসের ভিত্তিতে বিক্রয়ের অনুমতি এসেছে। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত হলেও বোঝায়, কিছু লেনদেনে মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় বিশেষ ছাড় থাকতে পারে। তবে এই ছাড় নির্দিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত—আরিয়্যা। তাই এটিকে সব ধরনের অনুমানভিত্তিক বিক্রয়ের সাধারণ অনুমতি হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। মূল শিক্ষা হলো, শরীয়তে ন্যায্যতা বজায় রেখে মানুষের প্রয়োজনও বিবেচনা করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরিয়্যার ক্ষেত্রে অনুমান করে বিক্রয়ের বিশেষ অনুমতি এসেছে।
- বিশেষ ছাড়কে সব বিক্রয়ের সাধারণ নিয়ম বানানো উচিত নয়।
- লেনদেনে প্রয়োজন ও ন্যায্যতা দুটিই বিবেচ্য।
