৩০/১. অধ্যায়ঃ
শিশুদের দুধ পান করানো
দুধ-সম্পর্কে মাহরাম: জন্মের সম্পর্কের মতো হারাম
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৪৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৪৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَخْبَرَتْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عِنْدَهَا وَأَنَّهَا سَمِعَتْ صَوْتَ رَجُلٍ يَسْتَأْذِنُ فِي بَيْتِ حَفْصَةَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ هَذَا رَجُلٌ يَسْتَأْذِنُ فِي بَيْتِكَ.فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرَاهُ فُلَانًا لِعَمٍّ لِحَفْصَةَ مِنْ الرَّضَاعَةِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللهِ لَوْ كَانَ فُلَانٌ حَيًّا لِعَمِّهَا مِنْ الرَّضَاعَةِ دَخَلَ عَلَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ إِنَّ الرَّضَاعَةَ تُحَرِّمُ مَا تُحَرِّمُ الْوِلَادَةُ.
আমর ইবনু আবদির রহমান (র) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট ছিলেন। (এমন সময়) তিনি জনৈক ব্যক্তির আওয়ায শুনলেন। সে ব্যক্তিটি হাফসা (রা)-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছিল। আয়িশা (রা) বললেন : আমি বললাম, ইয়া রসূলুল্লাহ! ইহা (অপরিচিত) ব্যক্তির আওয়ায, আপনার গৃহে অনুমতি চাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি মনে করি সে ব্যক্তি অমুক, হাফসা (রা)-এর দুধ চাচা হবে। আয়িশা (রা) বললেন : ইয়া রসূলুল্লাহ্! যদি অমুক তার দুধ চাচা জীবিত থাকতেন, তিনি আমার নিকট প্রবেশ করতে পারতেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ জন্মসূত্রে আত্মীয়তার ফলে যেসব (সম্পর্ক ও বিবাহ) হারাম হয় দুগ্ধপান করার ফলেও সেসব হারাম হয়ে যায়। (বুখারী ২৬৪৬, মুসলিম ১৪৪৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুধ-সম্পর্ক বা রাযা‘আতের একটি বড় নীতি এসেছে। আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি হাফসা (রা)-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইছিল। আয়িশা (রা) বিষয়টি জানালে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি সম্ভবত হাফসা (রা)-এর দুধ চাচা। আয়িশা (রা) জানতে চাইলেন, যদি তার দুধ চাচা জীবিত থাকতেন, তবে কি তিনি তার কাছে প্রবেশ করতে পারতেন? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি নীতি বললেন, জন্মসূত্রে যে সম্পর্ক হারাম হয়, দুধপান করার কারণেও সেই সম্পর্ক হারাম হয়। তাই দুধ-সম্পর্ককে ইসলামে গুরুতর পারিবারিক সম্পর্ক হিসেবে দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধপানের মাধ্যমে কিছু সম্পর্ক মাহরাম হয়ে যায়।
- জন্মসূত্রে যে সম্পর্ক হারাম, দুধ-সম্পর্কেও তা হারাম হয়।
- ঘরে প্রবেশের অনুমতির বিষয়েও দুধ-সম্পর্কের প্রভাব আছে।
- পারিবারিক সম্পর্কের বিধান জানতে হলে দুধ-সম্পর্কও খেয়াল রাখতে হয়।
