২৯/৩৫. অধ্যায়ঃ
শোক পালনের ব্যাপারে করণীয়
স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত: চার মাস দশ দিন শোক পালনের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৪১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৪১
قَالَتْ زَيْنَبُ وَسَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَقُولُ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدْ اشْتَكَتْ عَيْنَيْهَا أَفَتَكْحُلُهُمَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ لَا ثُمَّ قَالَ إِنَّمَا هِيَ { أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا }وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ قَالَ حُمَيْدُ بْنُ نَافِعٍ فَقُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ فَقَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتْ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلَا شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَيْرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَيْءٍ إِلَّا مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعْرَةً فَتَرْمِي بِهَا ثُمَّ تُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ ২২১৮-قَالَ مَالِك وَالْحِفْشُ الْبَيْتُ الرَّدِيءُ وَتَفْتَضُّ تَمْسَحُ بِهِ جِلْدَهَا كَالنُّشْرَةِ.
যয়নাব (র) হতে বর্ণিতঃ
আমি আমার মাতা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রা)-কে বলতে শুনেছি, একজন মহিলা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বললেন : ইয়া রসূলুল্লাহ! আমার কন্যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে তার চক্ষুতে ব্যথা, আমি কি তার চক্ষুতে সুরমা লাগাতে পারি? (উত্তরে) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না দুইবার অথবা তিনবার বললেন : প্রতিবার এইরূপ না বললেন। অতঃপর বললেন। ইদ্দত হচ্ছে চার মাস দশ দিন। জাহিলিয়্যা যুগে তোমাদের প্রথা ছিল একজন এক বৎসর পূর্ণ হলে উটের মল ছুড়ে মারত। হুমায়িদ ইবনু নাফি’ বলেন : আমি যয়নাবকে বললাম, এক বৎসর পূর্ণ হলে উটের মল কেন ছুড়ে মারত? যয়নাব (রা) বললেন : কোন মেয়েলোকের স্বামীর মৃত্যু হলে (নিয়ম এই ছিল যে,) সে একটি কুঠরিতে প্রবেশ করত এবং নিকৃষ্ট বস্ত্র পরিধান করত, খোশবু এবং এজাতীয় কোন (সাজ সজ্জার কোন কিছু) বস্তু স্পর্শ করত না। এভাবে এক বৎসর অতিবাহিত হলে পর তার কাছে উপস্থিত করা হত চতুষ্পদ জন্তু গাধা, বকরী অথবা কোন পাখী এবং উহা দ্বারা (তার লজ্জাস্থানে) ঘর্ষণ করা হত, ঘর্ষণ করার পর সেই জীব প্রায় মারা যেত, তারপর সে বদ্ধ ঘর হতে বের হত। অতঃপর তার সম্মুখে উটের মল উপস্থিত করা হত সে উহাকে ছুড়ে মারত। তারপর যা ইচ্ছা খোশবু ইত্যাদি ব্যবহার করত।মালিক (র) বলেন : হিফশ حِفْشُ শব্দের অর্থ নিকৃষ্ট ঘর, تَفْتَضُّ -এর অর্থ উহাকে দেহের চামড়ায় ঘর্ষণ করত যেমন করাত।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দত ও শোক পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন, তার মেয়ের স্বামী মারা গেছে এবং মেয়ের চোখে ব্যথা, সে কি চোখে সুরমা লাগাতে পারে? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বললেন, না। এরপর তিনি জানালেন, ইদ্দত হলো চার মাস দশ দিন। হাদিসে জাহিলিয়্যা যুগের কঠিন ও অস্বাভাবিক শোক পালনের রীতিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইসলামে স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত করা হয়েছে এবং অযথা কষ্টকর প্রথা বাদ দেওয়া হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, শোক পালন থাকবে, তবে তা ইসলামের নির্ধারিত সীমার মধ্যে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দত চার মাস দশ দিন।
- ইদ্দতের সময় সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য বাড়ানোর বিষয় থেকে বিরত থাকার শিক্ষা আছে।
- ইসলাম জাহিলিয়্যা যুগের কষ্টকর শোক-প্রথাকে সীমিত ও নিয়মবদ্ধ করেছে।
- ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করা ভালো।
