২৯/৩৩. অধ্যায়ঃ
বাঁদীর ইদ্দত - যদি তার কর্তা কিংবা স্বামীর মৃত্যু হয়
ক্রীতদাসীর ইদ্দত: রুজূযোগ্য তালাকের পর স্বামীর মৃত্যু হলে বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৩২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৩২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يُطَلِّقُ الْأَمَةَ طَلَاقًا لَمْ يَبُتَّهَا فِيهِ لَهُ عَلَيْهَا فِيهِ الرَّجْعَةُ ثُمَّ يَمُوتُ وَهِيَ فِي عِدَّتِهَا مِنْ طَلَاقِهِ إِنَّهَا تَعْتَدُّ عِدَّةَ الْأَمَةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا شَهْرَيْنِ وَخَمْسَ لَيَالٍ وَإِنَّهَا إِنْ عَتَقَتْ وَلَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ ثُمَّ لَمْ تَخْتَرْ فِرَاقَهُ بَعْدَ الْعِتْقِ حَتَّى يَمُوتَ وَهِيَ فِي عِدَّتِهَا مِنْ طَلَاقِهِ اعْتَدَّتْ عِدَّةَ الْحُرَّةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَذَلِكَ أَنَّهَا إِنَّمَا وَقَعَتْ عَلَيْهَا عِدَّةُ الْوَفَاةِ بَعْدَ مَا عَتَقَتْ فَعِدَّتُهَا عِدَّةُ الْحُرَّةِ قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
ক্রীতদাস (স্বামী) ক্রীতদাসী (স্ত্রী)-কে এমন তালাক দিল যা বাইন নয় এবং উহাতে স্ত্রীর দিকে রুজূ’ করার ইখতিয়ার আছে। তারপর তার মৃত্যু ঘটল এবং স্ত্রী তখন তালাকের ইদ্দত পালন করছে। তবে সে যে ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে তার মতো ইদ্দত পালন করবে, আর ইহা দুই মাস পাচ রাত্রি। আর যদি তাকে মুক্তি দান করা হয় তার স্বামীর রুজূ করার ক্ষমতা থাকাবস্থায়, তারপর তার স্বামীর মৃত্যুকাল পর্যন্ত সে স্বামী হতে বিচ্ছেদ গ্রহণ করে নাই এবং সে তখনও তালাকের ইদ্দতে রয়েছে, তবে সে (ক্রীতদাসী) আযাদ মহিলার মতো (যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে) চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। ইহা এজন্য যে, আযাদ হওয়ার পর তার উপর (স্বামীর) ওফাতের ইদ্দত বর্তায়েছে। তাই তার ইদ্দত হবে আযাদ স্ত্রীর ইদ্দতের মতো। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)(মালিক (র) বলেন : এটাই আমাদের নির্ধারিত মত।)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ক্রীতদাসীর ইদ্দত নিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাসআলা বলা হয়েছে। এখানে এমন অবস্থার কথা এসেছে, যখন ক্রীতদাস স্বামী তার ক্রীতদাসী স্ত্রীকে এমন তালাক দেয়, যা বাইন নয়; অর্থাৎ স্বামীর রুজূ করার সুযোগ থাকে। এরপর স্বামী মারা যায় এবং স্ত্রী তখনও তালাকের ইদ্দত পালন করছে। এই অবস্থায় সে ক্রীতদাসী বিধবার মতো ইদ্দত পালন করবে—দুই মাস পাঁচ রাত। আবার যদি সেই স্ত্রীকে স্বামীর রুজূ করার ক্ষমতা থাকাবস্থায় মুক্ত করা হয়, তারপর সে স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বামী থেকে বিচ্ছেদ গ্রহণ না করে এবং তখনও তালাকের ইদ্দতে থাকে, তাহলে তার ইদ্দত হবে আযাদ মহিলার মতো—চার মাস দশ দিন। কারণ, বর্ণনার ভাষায়, ওফাতের ইদ্দত তার উপর এসেছে আযাদ হওয়ার পরে। তাই এই হাদিসে ইদ্দতের বিধান, রুজূযোগ্য তালাক, ক্রীতদাসী স্ত্রী ও আযাদ স্ত্রীর ইদ্দতের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুজূযোগ্য তালাকের ইদ্দতে স্বামীর মৃত্যু হলে ইদ্দতের ধরন বদলাতে পারে।
- ক্রীতদাসী স্ত্রীর স্বামীর মৃত্যু হলে তার ইদ্দত দুই মাস পাঁচ রাত বলা হয়েছে।
- মুক্ত হওয়ার পর ওফাতের ইদ্দত বর্তালে সে আযাদ স্ত্রীর মতো চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে।
- ইদ্দতের বিধানে নারীর অবস্থা—ক্রীতদাসী না আযাদ—গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
