২/২৫. অধ্যায়ঃ

জুনুবী ব্যক্তির তাইয়াম্মুম

পানি না পেলে তাইয়াম্মুম, পানি পেলে গোসল: পবিত্রতার সহজ বিধান

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ الرَّجُلِ الْجُنُبِ يَتَيَمَّمُ ثُمَّ يُدْرِكُ الْمَاءَ فَقَالَ سَعِيدٌ إِذَا أَدْرَكَ الْمَاءَ فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ لِمَا يُسْتَقْبَلُِِِِ ১৮১قَالَ مَالِك فِيمَنْ احْتَلَمَ وَهُوَ فِي سَفَرٍ وَلَا يَقْدِرُ مِنْ الْمَاءِ إِلَّا عَلَى قَدْرِ الْوُضُوءِ وَهُوَ لَا يَعْطَشُ حَتَّى يَأْتِيَ الْمَاءَ قَالَ يَغْسِلُ بِذَلِكَ فَرْجَهُ وَمَا أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ الْأَذَى ثُمَّ يَتَيَمَّمُ صَعِيدًا طَيِّبًا كَمَا أَمَرَهُ اللهُ ১৮২-و سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ جُنُبٍ أَرَادَ أَنْ يَتَيَمَّمَ فَلَمْ يَجِدْ تُرَابًا إِلَّا تُرَابَ سَبَخَةٍ هَلْ يَتَيَمَّمُ بِالسِّبَاخِ وَهَلْ تُكْرَهُ الصَّلَاةُ فِي السِّبَاخِ قَالَ مَالِك لَا بَأْسَ بِالصَّلَاةِ فِي السِّبَاخِ وَالتَّيَمُّمِ مِنْهَا لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ { فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا } فَكُلُّ مَا كَانَ صَعِيدًا فَهُوَ يُتَيَمَّمُ بِهِ سِبَاخًا كَانَ أَوْ غَيْرَهُِِِِ .

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র)- হতে বর্ণিতঃ

যে তাইয়াম্মুম করার পর পানি পেয়েছে। সাঈদ (র) উত্তরে বললেন, পানি পেলে আগামী নামাযের জন্য তার উপর গোসল ওয়াজিব হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেছেন, এমন এক ব্যক্তি যার ইহতিলাম হয়েছে অথচ সে মুসাফির। কেবল ওযূর পরিমাণ পানি ছাড়া তার কাছে আর পানি নাই এবং পানি পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বে সে পিপাসিত হবে না। তিনি বললেন, সেই পানি দ্বারা সে তার লজ্জাস্থান এবং যে স্থানে নাপাকী লেগেছে তা ধুবে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক পবিত্র মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করবে।মালিক (র)-কে প্রশ্ন করা হল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি প্রসঙ্গে যে তাইয়াম্মুম করতে ইচ্ছা করেছে; কিন্তু সে লবণাক্ত মাটি ছাড়া অন্য মাটি পেল না। তবে সে কি লবণাক্ত মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করবে? আরও প্রশ্ন করা হল লবণাক্ত মাটিতে নামায আদায় কি মাকরূহ? (উত্তরে) মালিক (র) বললেন, লবণাক্ত মাটিতে নামায আদায় এবং লবণাক্ত মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করাতে কোন দোষ নেই। কারণ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا “তোমরা পবিত্র মাটির দ্বারা তাইয়াম্মুম কর” (সূরা আল-মায়িদাহ, ৬)। ফলে যে কোন পবিত্র মাটি তাইয়াম্মুমের উপযুক্ত বলে গণ্য হবে। লবণাক্ত হোক অথবা না হোক।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কয়েকটি কাছাকাছি বিষয় এসেছে, সবগুলোই পবিত্রতা ও তাইয়াম্মুমের সাথে সম্পর্কিত। প্রথম অংশে বলা হয়েছে, কেউ জুনুব অবস্থায় তাইয়াম্মুম করল, পরে পানি পেল, তাহলে আগামী নামাজের জন্য তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে। দ্বিতীয় অংশে মুসাফিরের কথা এসেছে, যার কাছে শুধু ওযূর পরিমাণ পানি আছে। ইমাম মালিক (র) বলেন, সে পানি দিয়ে লজ্জাস্থান ও নাপাকী লাগা জায়গা ধুবে, তারপর আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পবিত্র মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করবে। তৃতীয় অংশে লবণাক্ত মাটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। উত্তরে বলা হয়েছে, লবণাক্ত মাটিতে নামাজ আদায় ও তা দিয়ে তাইয়াম্মুম করায় দোষ নেই, যদি তা পবিত্র মাটির অন্তর্ভুক্ত হয়। তাই এই হাদিসে “পানি না পেলে তাইয়াম্মুম”, “পানি পেলে গোসল” এবং “পবিত্র মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম” বিষয়গুলো সহজভাবে বোঝা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাইয়াম্মুম করার পর পানি পাওয়া গেলে পরবর্তী নামাজের জন্য গোসলের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
  • অল্প পানি থাকলে নাপাকী ধুয়ে পবিত্র মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করার শিক্ষা এসেছে।
  • লবণাক্ত মাটি পবিত্র হলে তা দিয়ে তাইয়াম্মুম করা যেতে পারে বলে বর্ণনায় বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন