২৯/২৯. অধ্যায়ঃ

তালাকের বিবিধ প্রসঙ্গ

তালাক দুই বার: রুজূর অপব্যবহার বন্ধের শিক্ষা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২১৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ الرَّجُلُ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثُمَّ ارْتَجَعَهَا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا كَانَ ذَلِكَ لَهُ وَإِنْ طَلَّقَهَا أَلْفَ مَرَّةٍ فَعَمَدَ رَجُلٌ إِلَى امْرَأَتِهِ فَطَلَّقَهَا حَتَّى إِذَا شَارَفَتْ انْقِضَاءَ عِدَّتِهَا رَاجَعَهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا ثُمَّ قَالَ لَا وَاللهِ لَا آوِيكِ إِلَيَّ وَلَا تَحِلِّينَ أَبَدًا فَأَنْزَلَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ } فَاسْتَقْبَلَ النَّاسُ الطَّلَاقَ جَدِيدًا مِنْ يَوْمِئِذٍ مَنْ كَانَ طَلَّقَ مِنْهُمْ أَوْ لَمْ يُطَلِّقْ.

হিশাম ইবনু উরওয়া (র) হতে বর্ণিতঃ

পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন (পূর্বে নিয়ম ছিল) স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে উহার দিকে রুজূ’ করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির ছিল, যদিও স্ত্রীকে হাজার তালাক দিয়ে থাকে। এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিল। যখনই ইদ্দত সমাপ্তির প্রান্তে পৌঁছেছে তখন স্বামী তার দিকে রুজূ’ করল। তারপর আবার তালাক দিল, অতঃপর সে বলল : আমি তোমাকে আর কখনও আমার নিকট আশ্রয় দেব না, আমার জন্য তুমি কখনও হালাল হবে না। তারপর আল্লাহ তা’আলা (আয়াত) নাযিল করলেন : الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ.অর্থাৎ এই তালাক দুই বার। অতঃপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রেখে দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দিবে। সেই দিন হতে লোকেরা নূতনভাবে গণনা আরম্ভ করল, যারা (ইতিপূর্বে) তালাক দিয়েছিল তারাও এবং যারা তালাক দেয়নি তারাও। (যয়ীফ, তিরমিযী ১১৯২, আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন [সহীহ ও যয়ীফ সুনানে তিরমিযী] মুরসাল আর ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২১৮-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, আগে কেউ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে রুজূ করতে পারত, যদিও অনেকবার তালাক দিত। এক ব্যক্তি এই সুযোগকে কষ্ট দেওয়ার উপায় বানায়। সে স্ত্রীকে তালাক দিত, ইদ্দত শেষ হওয়ার কাছাকাছি আবার রুজূ করত, তারপর আবার তালাক দিত। এরপর সে বলত, আমি তোমাকে আশ্রয়ও দেব না, আর তুমি আমার জন্য হালালও হবে না। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন: তালাক দুই বার; এরপর হয় ভালোভাবে রেখে দেবে, অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দেবে। এই হাদিসে তালাক ও রুজূর অপব্যবহার বন্ধ করার শিক্ষা আছে। এখানে স্ত্রীর ওপর দীর্ঘ কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া নিষেধ করা হয়েছে এবং তালাকের সীমা স্পষ্ট করা হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রুজূর অধিকার স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
  • তালাকের সীমা নির্ধারণ করে অন্যায় প্রথা বন্ধ করা হয়েছে।
  • দাম্পত্যে হয় ভালোভাবে রাখা, নয়তো সদয়ভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত।
  • ইদ্দত দীর্ঘ করার জন্য তালাক-রুজূ করা অন্যায় আচরণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন