২৯/২৬. অধ্যায়ঃ
পঞ্চায়েত বা সালিসের ব্যক্তিদ্বয়
স্বামী-স্ত্রীর বিবাদে সালিস: মিলন ও বিচ্ছেদের ফয়সালা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২১০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২১০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ فِي الْحَكَمَيْنِ اللَّذَيْنِ قَالَ اللهُ تَعَالَى { وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقْ اللهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللهَ كَان عَلِيمًا خَبِيرًا }إِنَّ إِلَيْهِمَا الْفُرْقَةَ بَيْنَهُمَا وَالْاجْتِمَاعَ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْحَكَمَيْنِ يَجُوزُ قَوْلُهُمَا بَيْنَ الرَّجُلِ وَامْرَأَتِهِ فِي الْفُرْقَةِ وَالْاجْتِمَاعِ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আলী ইবনু আবি তালীব (রা) হাকামান (সালিসের ব্যক্তিদ্বয়) সম্পর্কে বলেছেন (যাদের বিষয়ে) আল্লাহ তা’আলা বলেছেনوَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقْ اللهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللهَ كَان عَلِيمًا خَبِيْرًا.অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে তোমরা যদি বিবাদের আশংকা কর তবে স্বামীর পরিজন হতে একজন এবং স্ত্রীর পরিজন হতে একজন হাকাম (ফয়সালাকারী, বিবাদ মীমাংসাকারী) প্রেরণ কর যদি তারা উভয়ে মীমাংসার ইচ্ছা করেন। আল্লাহ তাদের তওফীক দান করবেন, আল্লাহ নিশ্চয় সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত। অর্থাৎ তাদের হাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিচ্ছেদ ও মিলন এই দুইয়ের সুযোগ রয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, সালিসের ব্যক্তিদ্বয়ের ফয়সালা স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও মিলনের ব্যাপারে প্রযোজ্য হবে, এটাই সর্বোত্তম যা আমি আলিম ব্যক্তিদের নিকট শুনেছি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২১০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আলী ইবনু আবি তালিব (রা)-এর কথা এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের আশঙ্কা হলে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন হাকাম বা সালিস পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তারা যদি মীমাংসা চায়, আল্লাহ তাদের তওফীক দেবেন। আলী (রা)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই সালিসের হাতে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও মিলন—দুই ধরনের ফয়সালার সুযোগ আছে। ইমাম মালিক (র) বলেন, আলিমদের কাছ থেকে তিনি যে ভালো কথা শুনেছেন, তা হলো সালিসদের সিদ্ধান্ত বিচ্ছেদ ও মিলনের ব্যাপারে কার্যকর হবে। এই হাদিস পারিবারিক ঝগড়ায় শান্তিপূর্ণ সমাধান, ন্যায়ভিত্তিক সালিস এবং দায়িত্বশীল মীমাংসার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় দুই পক্ষের ন্যায়পরায়ণ সালিস দরকার হতে পারে।
- সালিসের লক্ষ্য হওয়া উচিত মীমাংসা ও কল্যাণ।
- প্রয়োজনে সালিস মিলন বা বিচ্ছেদের ফয়সালা করতে পারে।
- পারিবারিক সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা আছে।
